এআই-চালিত সরঞ্জাম ইতিমধ্যেই পড়াশোনা ও দৈনন্দিন কথোপকথনের অংশ হয়ে উঠেছে। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে মূল প্রশ্ন শুধু প্রযুক্তি গ্রহণের নয়, ছাত্রছাত্রীরা তা কতটা সমালোচনামূলক ও দায়িত্বশীল ভাবে ব্যবহার করছে, তার মূল্যায়নও নতুন করে করা দরকার।

দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়ার ‘এডু আইকনস 2026’-এর অঙ্গ হিসেবে আয়োজিত ‘বিয়ন্ড স্মার্ট ক্লাসরুমস: টেকনোলজি ড্রাইভিং ইনস্টিটিউশনাল এক্সেলেন্স’ শীর্ষক আলোচনায় শিক্ষাবিদেরা জানান, এআই গবেষণার গতি বাড়াতে, প্রশাসনিক কাজ সহজ করতে এবং পাঠদানে সহায়তা করতে পারে। তবে তা শিক্ষকের বিচারবোধ বা শিক্ষার মানবিক দিকের বিকল্প হতে পারে না।

এসআরএম স্কুল অফ ল-এর ডিন ইন্দ্রনাথ গুপ্তর বক্তব্য, আইনের মৌলিক বিষয়গুলি বদলায়নি, কিন্তু প্রযুক্তি গবেষণা ও তথ্য পাওয়ার প্রক্রিয়াকে অনেক দ্রুত করেছে। তাঁর মতে, এআইকে গবেষণা ও বিশ্লেষণের প্রাথমিক সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করা উচিত, তার উত্তর যাচাই না করে অন্ধভাবে মেনে নেওয়া নয়।

কেরিয়ার কনসালট্যান্ট ও শিক্ষাবিদ জয়প্রকাশ গান্ধী বলেন, তাত্ত্বিক পড়াশোনা একা আর যথেষ্ট নয়। ছাত্রছাত্রীদের ব্যবহারিক ও প্রয়োগভিত্তিক শেখার সুযোগ বাড়াতে হবে এবং শিল্পক্ষেত্রের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের যোগাযোগ আরও মজবুত করতে হবে।

এথিরাজ কলেজ ফর উইমেনের চেয়ারম্যান ভি এম মুরলীধরনের মতে, ভবিষ্যতে চাকরির উপযোগিতা শুধু শিক্ষাগত যোগ্যতায় নির্ধারিত হবে না; অভিযোজনক্ষমতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ও সমালোচনামূলক চিন্তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তাঁর বক্তব্য, পাঠ্যক্রমে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা অপরিহার্য।

আলোচনায় আরও উঠে আসে, সহমর্মিতা, সৃজনশীলতা, নৈতিক বিচারবোধ এবং আবেগগত বুদ্ধিমত্তা এমন ক্ষেত্র, যা প্রযুক্তি প্রতিস্থাপন করতে পারে না। কেআরইউইউ-র প্রতিষ্ঠাতা ও ক্রেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর অফ প্র্যাকটিস কলাইমামণি অনিল শ্রীনিবাসনের বক্তব্য, মডিউলার শিক্ষা, আন্তঃবিষয়ক পাঠক্রম, প্রজেক্টভিত্তিক শিক্ষা ও সহযোগিতাকে প্রতিষ্ঠানের নীতির অংশ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত তামিলনাড়ুর স্কুল শিক্ষা, তামিল উন্নয়ন, তথ্য ও প্রচারমন্ত্রী এ রাজমোহন শিক্ষা দপ্তরে অভিযোগ ডিজিটাইজ়েশন, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগের কথা বলেন। এআই-নির্ভর শিক্ষার প্রসারে প্রতিষ্ঠানগুলি কী ভাবে শেখার মান ও প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার যাচাইয়ের ব্যবস্থা গড়ে তোলে, এখন নজর সেদিকেই।