গুয়াহাটি, ২ নভেম্বর: অসমের বিদ্যুৎ গ্রাহকদের উপর বাড়তি আর্থিক বোঝা চাপতে পারে। ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত জমে থাকা ১৫৫.৫৯ কোটি টাকার Fuel and Power Purchase Price Adjustment Surcharge (FPPPAS) ধাপে ধাপে আদায়ের অনুমতি দিয়েছে Assam Electricity Regulatory Commission (AERC)। Assam Power Distribution Company Limited (APDCL) এই টাকা ২০২৬ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে আদায় করতে পারবে।
৩০ অক্টোবরের নির্দেশে AERC জানিয়েছে, বন্যাজনিত সমস্যা এবং অন্যান্য অনিবার্য পরিস্থিতির কারণে APDCL নির্ধারিত সময়ে এই অতিরিক্ত সারচার্জ আদায় করতে পারেনি। ফলে বিদ্যুৎ কেনা ও সরবরাহের খরচের ওঠানামার কারণে পাঁচ মাসের সারচার্জ জমে ১৫৫.৫৯ কোটি টাকা হয়েছে।
এই টাকা পাঁচ মাসে আদায়ের জন্য APDCL মাসিক ৩.৮১ শতাংশ FPPPAS হারের প্রস্তাব দিয়েছিল। সংস্থার প্রস্তাব অনুযায়ী, নভেম্বরে ৪০.০৭ কোটি টাকা, ডিসেম্বরে ৩০.৯৫ কোটি টাকা, জানুয়ারিতে ২৮.৯৭ কোটি টাকা, ফেব্রুয়ারিতে ২৯.৩৬ কোটি টাকা এবং মার্চে ২৬.২৩ কোটি টাকা আদায় করার কথা ছিল।
তবে APDCL-এর প্রস্তাবিত মাসভিত্তিক আদায়ের সূচি কিংবা ৩.৮১ শতাংশ হার অনুমোদন করেনি AERC। পরিবর্তে, নভেম্বর ২০২৬ থেকে মার্চ ২০২৭-এর মধ্যে কীভাবে মাসে মাসে এই টাকা আদায় করা হবে, তা ঠিক করার ক্ষেত্রে APDCL-কে কিছুটা স্বাধীনতা দিয়েছে কমিশন। একই সঙ্গে গ্রাহকদের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপের বিষয়টি বিবেচনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জীবন ধারা শ্রেণির গ্রাহক এবং মাসে ১২০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন এমন Domestic-A শ্রেণির গ্রাহকদের জন্য প্রতি ইউনিটে ৫ পয়সা সারচার্জ নেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছিল APDCL। কিন্তু এই পৃথক হারেও অনুমোদন দেয়নি কমিশন।
AERC নির্দেশ দিয়েছে, এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত জমে থাকা পুরনো সারচার্জ এবং সংশ্লিষ্ট সময়ের নিয়মিত মাসিক FPPPAS বিদ্যুতের বিলে আলাদা করে দেখাতে হবে। কত টাকা আদায় হয়েছে, কীভাবে হিসাব করা হয়েছে এবং বিলের বিস্তারিত তথ্য—সব কিছুর মাসভিত্তিক নথি সংরক্ষণ করে কমিশনের কাছে জমা দিতে হবে APDCL-কে।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, কোনও মাসের FPPPAS সাধারণত তার পরের দ্বিতীয় মাসের বিদ্যুৎ বিলে আদায় করা হয়। কিন্তু বন্যা এবং অন্যান্য বিশেষ পরিস্থিতির কারণে এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত জমে থাকা সারচার্জ নির্ধারিত সময়ে আদায় করা যায়নি বলে কমিশনকে জানিয়েছিল APDCL।
AERC স্পষ্ট করে জানিয়েছে, বিশেষ পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করেই এই ছাড় দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতের অন্য কোনও ক্ষেত্রে একে নজির হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। সময়মতো সারচার্জ আদায় এবং নিয়ম মেনে চলার উপরও জোর দিয়েছে কমিশন।
এই সিদ্ধান্তের ফলে নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত অসমের বিদ্যুৎ গ্রাহকদের মাসিক বিলে অতিরিক্ত সারচার্জ যুক্ত হতে পারে। তবে প্রতি মাসে গ্রাহকদের কত টাকা বেশি দিতে হবে, তা নির্ভর করবে APDCL-এর নির্ধারিত মাসভিত্তিক আদায়ের পরিকল্পনার উপর।