গুয়াহাটি: অসমের নারী ও শিশু উন্নয়ন অধিদপ্তর (DWCD) কেন্দ্রের বরাদ্দ করা ৩,১০৯.৮৯ মেট্রিক টন (MT) ভর্তুকিযুক্ত চাল না তোলায় সরকারি কোষাগারের ₹৭.২৪ কোটি অতিরিক্ত ব্যয়ের কথা উল্লেখ করেছে CAG। অপুষ্টিতে ভোগা, স্কুলছুট কিশোরীদের জন্য বরাদ্দ করা ওই চালের পরিবর্তে ৬১টি NGO ও স্বনির্ভর গোষ্ঠী (SHG)-র মাধ্যমে খোলা বাজার থেকে চাল কেনা হয়েছিল—যার দাম ফুড কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (FCI)-র নির্ধারিত দামের তুলনায় সর্বোচ্চ ৬.৭ গুণ পর্যন্ত ছিল।
২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত সময়কালের জন্য ভারতের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (CAG)-এর রিপোর্ট নং ৩, ২০২৬-এর ১.৩.৫ অনুচ্ছেদে এই বিষয়টি উঠে এসেছে। অডিট রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট (EoI) নতুন দরপত্র ছাড়াই ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বারবার বাড়ানো হয়েছিল। এর মাধ্যমে ₹২৮.২৩ কোটি মূল্যের ‘টেক হোম রেশন’ (THR) সরবরাহ করা হয়, অথচ কেন্দ্রের বরাদ্দ করা কম দামের চাল অব্যবহৃত থেকে যায়।
১. ₹৫.৬৫ কেজির FCI চাল উপেক্ষা, বাজার থেকে ₹৩৮ কেজি দরে চাল
‘স্কিম ফর অ্যাডোলেসেন্ট গার্লস’ (SAG)—ইন্টিগ্রেটেড চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট সার্ভিসেস (ICDS)-এর আওতায় একটি কেন্দ্রীয় পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত প্রকল্প। ১১ থেকে ১৪ বছর বয়সি স্কুলছুট কিশোরীদের জন্য এই প্রকল্পে বছরে ৩০০ দিন পরিপূরক পুষ্টির ব্যবস্থা রয়েছে। প্রত্যেক উপভোক্তার জন্য নির্ধারিত দৈনিক খরচ ₹৯.৫০। এর মাধ্যমে ৬০০ ক্যালোরি, ১৮–২০ গ্রাম প্রোটিন এবং মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস সরবরাহ করার কথা।
অসমে প্রতিদিনের ₹৯.৫০ মূল্যের টেক হোম রেশন (THR)-এর উপাদান ছিল:
- চাল: প্রতিদিন ১৩০ গ্রাম উন্নত মানের ‘আইজং’ (পুরনো) চাল; এতে ৪৪৮.৫০ ক্যালোরি এবং ৮.৮৪ গ্রাম প্রোটিন পাওয়ার কথা।
- ডাল: প্রতিদিন ৫০ গ্রাম মটর (সাদা মটর); এতে ১৫৭.৫০ ক্যালোরি এবং ৯.৮৫ গ্রাম প্রোটিন পাওয়ার কথা।
- অন্যান্য খরচ: পরিবহণ, তেল, জ্বালানি ও মশলার জন্য দৈনিক ₹৯.৫০-এর মধ্যে ₹০.৬০ বরাদ্দ ছিল।
খাদ্যশস্যের খরচ কম রাখতে কেন্দ্রীয় নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রক (MWCD) ফুড কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (FCI)-র মাধ্যমে দারিদ্র্যসীমার নীচে থাকা (BPL) পরিবারগুলির জন্য প্রযোজ্য কেন্দ্রীয় ইস্যু মূল্যে চাল বরাদ্দ করে। নির্ধারিত দাম ছিল প্রতি মেট্রিক টন ₹৫,৬৫০—অর্থাৎ প্রতি কেজি ₹৫.৬৫।
২০১৯ সালের মার্চ থেকে ২০২০ সালের মে মাসের মধ্যে ভারত সরকার SAG প্রকল্পে অসমের জন্য তিনটি আনুষ্ঠানিক বরাদ্দ-আদেশ জারি করে। মোট বরাদ্দ ছিল ৩,১০৯.৮৯ MT BPL-দরের চাল।
| অর্থবর্ষ ও ত্রৈমাসিক | বরাদ্দ-আদেশ নম্বর ও তারিখ | বরাদ্দ চাল (MT) | FCI-র BPL দর/MT | দর/কেজি | মোট FCI খরচ |
|---|---|---|---|---|---|
| ২০১৯–২০ (Q1) | SAG/3/2019-SAG (২০ মার্চ ২০১৯) | ৫২৯.৯৩ | ₹৫,৬৫০ | ₹৫.৬৫ | ₹০.৩০ কোটি |
| ২০১৯–২০ (Q2) | SAG/3/2019-SAG (২০ মার্চ ২০১৯) | ৫২৯.৯৩ | ₹৫,৬৫০ | ₹৫.৬৫ | ₹০.৩০ কোটি |
| ২০১৯–২০ (Q3) | SAG/3/2019-SAG (২ জানুয়ারি ২০২০) | ৮১৫.০০ | ₹৫,৬৫০ | ₹৫.৬৫ | ₹০.৪৬ কোটি |
| ২০১৯–২০ (Q4) | SAG/3/2019-SAG (২ জানুয়ারি ২০২০) | ৬১৭.৫১ | ₹৫,৬৫০ | ₹৫.৬৫ | ₹০.৩৫ কোটি |
| ২০২০–২১ (Q1) | SAG/2/2020-SAG (১৮ মে ২০২০) | ৬১৭.৫২ | ₹৫,৬৫০ | ₹৫.৬৫ | ₹০.৩৫ কোটি |
| ২০২০–২১ (Q2–Q4) ও ২০২১–২২ | কেন্দ্রের তরফে আর কোনও বরাদ্দ নয় | ০.০০ | — | — | — |
| মোট FCI বরাদ্দ | ৩টি বরাদ্দ-আদেশ | ৩,১০৯.৮৯ MT | ₹৫,৬৫০/MT | ₹৫.৬৫/কেজি | ₹১.৭৬ কোটি |
২. FCI-র চাল না তুলেই ৬১টি সরবরাহকারী সংস্থার সঙ্গে ২০১৮ সালের চুক্তি বাড়ানো
₹১.৭৬ কোটিতে FCI-র বরাদ্দ করা ৩,১০৯.৮৯ MT চাল না তুলে নারী ও শিশু উন্নয়ন অধিদপ্তর (DWCD) ২০১৮ সালের নভেম্বরে FY ২০১৮–১৯-এর জন্য প্রকাশিত EoI-র ওপর নির্ভর করে। নতুন দরপত্র না ডেকে ২০১৮–১৯ সালের সরবরাহের শর্ত ২০১৯–২০, ২০২০–২১ এবং ২০২১–২২ অর্থবর্ষেও বাড়ানো হয়।
২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে DWCD ৬১টি NGO/SHG-কে মোট ৫,৩৪৩.০৩ MT টেক হোম রেশন সরবরাহের নির্দেশ দেয়। এর মধ্যে ছিল ৩,৮৬৩.৬১ MT চাল এবং ১,৪৭৯.৪২ MT সাদা মটর। ২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে ₹২৮.২৩ কোটি দেওয়া হয়—এর মধ্যে ₹০.৫৮ কোটি ছিল প্রতিশ্রুত দায়। মোট খাদ্য সরবরাহের দিন ছিল ২,৯৭,১৯,২৭৮।
সরবরাহের অর্ডার খতিয়ে দেখে অডিটে দেখা যায়, খোলা বাজার থেকে চাল কেনার ক্ষেত্রে প্রতি কেজিতে ₹২৮ থেকে ₹৩৮ পর্যন্ত পাইকারি দর দেওয়া হয়েছিল।
| অর্থবর্ষ | সরবরাহ-আদেশের মাস | উপভোক্তা | খাদ্য সরবরাহের দিন | সরবরাহ করা চাল (MT) | পাইকারি দর | সরবরাহের খরচ (₹ কোটি) |
|---|---|---|---|---|---|---|
| ২০১৯–২০ | জুলাই ২০১৯ | ৬১,২১০ | ১৫০ | ১,১৯৩.৬০ | ₹৩৬.৫০/কেজি | ₹৪.৩৬ কোটি |
| ২০১৯–২০ | ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ৮,৪২৪ | ১৪১ | ১৫৪.৪১ | ₹৩৬.৫০/কেজি | ₹০.৫৬ কোটি |
| ২০২০–২১ | জুন ২০২০ | ৬,৭৬৫ | ১৪০ | ১২৩.১২ | ₹৩৮.০০/কেজি | ₹০.৪৭ কোটি |
| ২০২০–২১ | সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৫,৯৪৬ | ৫৪ | ৪১.৭৪ | ₹৩৮.০০/কেজি | ₹০.১৬ কোটি |
| ২০২১–২২ | মে ২০২১ | ৩২,০৩৩ | ২০৬ | ৮৫৭.৮৪ | ₹২৮.০০/কেজি | ₹২.৪০ কোটি |
| ২০২১–২২ | সেপ্টেম্বর ২০২১ (ব্যাচ ১) | ২৭,৮১২ | ৩০০ | ১,০৮৪.৬৭ | ₹৩০.০০/কেজি | ₹১.০৫ কোটি* |
| ২০২১–২২ | সেপ্টেম্বর ২০২১ (ব্যাচ ২) | ৩৩,৩৯৮ | ৯৪ | ৪০৮.১২ | ₹৩০.০০/কেজি | বাদ* |
| মোট অডিট-পরীক্ষিত | ১,৭৫,৫৮৮ | — | ৩,৮৬৩.৫০ MT | ₹২৮–₹৩৮/কেজি | ₹৯.০০ কোটি (FCI-র ₹১.৭৬ কোটির বিপরীতে) | |
*নোট: অডিট রিপোর্টের ১.৩.৫ নম্বর সারণিতে, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরের ব্যাচের ক্ষেত্রে CAG ৩৫০.৪৯ MT-এর জন্য ₹১.০৫ কোটি হিসাব করেছে। FCI-র বরাদ্দ করা ৩,১০৯.৮৯ MT চালের মূল্য ₹৫,৬৫০/MT দরে ₹১.৭৬ কোটি। এই হিসাবের ভিত্তিতে ₹৯.০০ কোটি বাজার-ক্রয়ের ব্যয়ের সঙ্গে তুলনা করে ₹৭.২৪ কোটি অতিরিক্ত ব্যয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
৩. ‘অর্থের অভাব’-এর যুক্তি: অডিট ও সংসদীয় নথিতে উঠল প্রশ্ন
₹৭.২৪ কোটি অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রসঙ্গে নারী ও শিশু উন্নয়ন দপ্তর ২০২৫ সালের এপ্রিলে জানায়, অর্থ না পাওয়া বা দেরিতে অর্থ পাওয়ার কারণে FCI থেকে বরাদ্দ করা চাল তোলা সম্ভব হয়নি।
কিন্তু CAG-র আর্থিক নথি এবং কেন্দ্রীয় নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রকের সংসদীয় তথ্য এই যুক্তিকে গ্রহণযোগ্য বলে মনে করেনি:
- রাজ্যের হিসাবে অব্যবহৃত ₹১৭.৭৩ কোটি: CAG-র অডিটররা অধিদপ্তরের হিসাব পরীক্ষা করে SAG প্রকল্পে ২০১৯–২০ অর্থবর্ষের শেষে ₹৯৮.১৬ লক্ষ এবং ২০২০–২১ অর্থবর্ষের শেষে ₹১,৭৭২.৭১ লক্ষ (₹১৭.৭৩ কোটি) অব্যবহৃত অর্থের সন্ধান পান। ২০১৯–২০ সালে বরাদ্দ করা ২,৪৯২.৩৭ MT চাল তুলতে প্রয়োজন ছিল ₹১.৪১ কোটি। ২০২০–২১ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকে বরাদ্দ ৬১৭.৫২ MT চাল তুলতে দরকার ছিল মাত্র ₹৩৪.৮৯ লক্ষ।
- ২০২০–২১ সালে SAG-এ দেশের সর্বোচ্চ কেন্দ্রীয় অনুদান পায় অসম: ২০২২ সালের ২৩ মার্চ কেন্দ্রীয় নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রী রাজ্যসভায় যে তথ্য পেশ করেন, সেই সরকারি নথি অনুযায়ী, ২০২০–২১ অর্থবর্ষে SAG প্রকল্পে অসমকে ₹১৯.১৯ কোটি (₹১,৯১৯.১৭ লক্ষ) দেওয়া হয়েছিল। উপভোক্তার সংখ্যা ছিল ৬৮,৫৪৫। ওই বছরে কেন্দ্রীয় SAG তহবিলের একক বৃহত্তম প্রাপক ছিল অসম—দেশজুড়ে বরাদ্দ ₹৪০.৮২ কোটির ৪৭ শতাংশ পেয়েছিল রাজ্য।
- ₹৯ কোটি বনাম ₹১.৭৬ কোটির প্রশ্ন: CAG-র রিপোর্টে বলা হয়েছে, FCI-কে ₹১.৭৬ কোটি দেওয়ার ক্ষেত্রে অর্থের অভাবের যুক্তি দেখানো হলেও একই চালের জন্য ৬১টি NGO ও SHG-কে ₹৯.০০ কোটি দেওয়া হয়েছিল। রিপোর্টে এই ব্যয়ের বিচক্ষণতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অসম ফিনান্সিয়াল রুলস, ১৯৩৯-এর ৪৬৬(১) নম্বর বিধি অনুযায়ী, সরকারি অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রত্যেক সরকারি আধিকারিককে নিজের অর্থের মতোই সতর্কতা ও বিচক্ষণতা অবলম্বন করতে হয়।
তথ্যসূত্র ও প্রাথমিক নথি
- প্রধান অডিট সূত্র: ভারতের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের অসম সরকারের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাধারণ ক্ষেত্রের অডিট রিপোর্ট—মার্চ ২০২৪ পর্যন্ত সময়কাল, রিপোর্ট নং ৩, ২০২৬ । অধ্যায় I (সামাজিক ক্ষেত্র), অনুচ্ছেদ ১.৩.৫—‘নারী ও শিশু উন্নয়ন দপ্তর: অতিরিক্ত ব্যয়’, পৃষ্ঠা viii, ৬৪–৬৬। রিপোর্টটি অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেল (অডিট), অসমের পোর্টাল-এও পাওয়া যায়।
- কেন্দ্রীয় বরাদ্দ-আদেশ: ভারত সরকারের নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রকের (MWCD) আদেশ নম্বর SAG/3/2019-SAG (২০ মার্চ ২০১৯), SAG/3/2019-SAG (২ জানুয়ারি ২০২০) এবং SAG/2/2020-SAG (১৮ মে ২০২০)।
- সংসদীয় ও মন্ত্রকের নথি: প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (PIB) / রাজ্যসভায় ‘স্কিম ফর অ্যাডোলেসেন্ট গার্লস (SAG)’ সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর—২৩ মার্চ ২০২২, PRID: 1808683 এবং নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রকের বার্ষিক প্রতিবেদন ২০২১–২২ (সরকারি PDF) ।