শিবসাগর, ৪ নভেম্বর: পুলিশের গুলিতে নিহত ঘনকান্ত গগৈয়ের ময়নাতদন্ত নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। শিবসাগর সিভিল হাসপাতালের সুপার জানিয়েছেন, ওই হাসপাতালে তাঁর ময়নাতদন্ত করা সম্ভব নাও হতে পারে।

সুপারের বক্তব্য অনুযায়ী, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের (NHRC) নির্দেশিকা মেনে এই ধরনের ঘটনায় বিশেষ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন। শিবসাগর সিভিল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত করতে হলে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের পাশাপাশি তিনটি পৃথক হাসপাতালের চিকিৎসকের উপস্থিতি প্রয়োজন হবে।

এই পরিস্থিতিতে শিবসাগরের পরিবর্তে যোরহাট অথবা অসম মেডিক্যাল কলেজে ঘনকান্ত গগৈয়ের ময়নাতদন্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। আপাতত তাঁর দেহ শিবসাগর সিভিল হাসপাতালের মর্গেই রাখা রয়েছে।

এদিকে, ঘনকান্তের মৃত্যু নিয়ে তাঁর পরিবারের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, গুয়াহাটি কেন্দ্রীয় জেল থেকে তাঁকে শিবসাগরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। পুলিশের গুলিতে তাঁর মৃত্যুর খবরও সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন বলে পরিবারের এক সদস্যের দাবি।

৪ নভেম্বর ভোরে শিবসাগর জেলার গৌরীসাগর এলাকার ফুলপানিচিগায় রংমন ধাবার কাছে পুলিশের গুলিতে ঘনকান্ত গগৈয়ের মৃত্যু হয়। পুলিশের বক্তব্য, অন্য একটি মামলার তদন্তের জন্য তাঁকে শিবসাগরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সেই সময় তিনি এক পুলিশকর্মীর অস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। এরপর পুলিশ গুলি চালায়। এই ঘটনায় এক পুলিশ সাব-ইনস্পেক্টরও আহত হন।

গুয়াহাটির বোরা সার্ভিস এলাকার বিলাস ইন হোটেলে গুলিচালনার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ছিলেন ঘনকান্ত গগৈ। ওই ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছিল। তাঁর মৃত্যুর পর ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া এবং পরিবারের অভিযোগ ঘিরে ঘটনাটি ফের আলোচনায় উঠে এসেছে।