দীপাবলির পর বড় অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল নির্মাতারা ফোনের দাম 10% বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছে খুচরো বিক্রেতাদের সংগঠন অল ইন্ডিয়া মোবাইল রিটেলার্স অ্যাসোসিয়েশন (এআইএমআরএ)। এমনিতেই সাশ্রয়ী দামের ফোনের বিভাগে দোকানে ক্রেতার আনাগোনা ও বিক্রি মূল্যের নিরিখে 25% থেকে 35% কমেছে।

এআইএমআরএ-র পূর্বাভাস, নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে বিক্রির পরিমাণ 50% পর্যন্ত কমতে পারে এবং সেই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। চাহিদা কমা ও যন্ত্রাংশের তীব্র সঙ্কটের জেরে শীর্ষ স্মার্টফোন ব্র্যান্ডগুলি উৎপাদনের সূচি ইতিমধ্যেই 30% কমিয়েছে বলেও সংগঠনটির দাবি।

সবচেয়ে বেশি চাপ পড়েছে ₹20,000-এর নীচের স্মার্টফোনে, যে বিভাগটি সাধারণত বিক্রির বড় অংশ জোগায়। বিক্রেতাদের বক্তব্য, এই দামে কার্যকর 5G ফোনের পর্যাপ্ত মডেল বাজারে আনেনি বড় ব্র্যান্ডগুলি। অন্য দিকে, এন্ট্রি-লেভেল ফোনের আগের মূল্যবৃদ্ধি, টাকার দরপতন এবং গ্রামীণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় এই বাজার আরও সঙ্কুচিত হয়েছে।

প্রস্তুতকারীরা ইঙ্গিত দিয়েছে, আগামী দিনে এন্ট্রি-লেভেল 5G ফোনের দাম ₹25,000 থেকে শুরু হবে। ফলে কম বাজেটের ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে 5G ফোন।

দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিস্তিতে কেনার উপর নির্ভরতা বেড়েছে। এআইএমআরএ-র হিসাব অনুযায়ী, স্মার্টফোন কেনার 80% ক্ষেত্রেই ইএমআই অর্থসাহায্য নেওয়া হয়। ₹75,000-এর বেশি দামের ফোনের বিক্রি ধরে রাখতে ব্র্যান্ড ও এনবিএফসি অংশীদারদের কাছে দীর্ঘ মেয়াদের, ডাউন পেমেন্ট ছাড়া কিস্তি প্রকল্প চালুর আর্জি জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

এআইএমআরএ-র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সভাপতি কৈলাস লাখিয়ানির দাবি, বিশ্ব জুড়ে মেমরি চিপের জোগান সঙ্কুচিত হওয়াই মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ। তাঁর বক্তব্য, দ্রুত ব্যবস্থা না হলে ফোন বদলের চক্র ভেঙে যেতে পারে এবং ক্রেতারা বহু বছর একই ফোন ব্যবহার করতে বাধ্য হতে পারেন। এখন নজর দীপাবলির পর দাম বাড়লে বিক্রি কতটা নীচে নামে।