সাহারানপুর, ১৩ সেপ্টেম্বর: উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরে জাল ২০ টাকার কয়েন তৈরির অভিযোগে ছ’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতেরা হরিয়ানার সোনিপত থেকে যন্ত্রপাতি উত্তরপ্রদেশে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। অভিযুক্তদের দাবি, বাজারে ৭০ কোটিরও বেশি টাকার জাল কয়েন ছড়িয়েছেন তাঁরা। যদিও পুলিশের তরফে এখনও সেই দাবি যাচাই করা হয়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, টিট্রন এলাকায় প্রথমে উপকার লুথরা ওরফে অভয় প্রতাপ সিং (৬২), সাহারানপুরের হিমাংশু ওরফে গুল্লু এবং মুজফ্‌ফরনগরের কুলদীপকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তাঁদের দুই সহযোগী বিহারের মধুবনীর সন্তোষ চৌরাসিয়া ওরফে জনার্দন এবং উত্তরপ্রদেশের সন্ত রবিদাস নগরের অনুরাগ পাল ওরফে লঙ্কেশ কাছের একটি মোড়ে পৃথক চারচাকা গাড়িতে অপেক্ষা করছিলেন। সেখান থেকেই তাঁদের গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশের দাবি, দু’টি গাড়ি থেকে ছ’টি ভারী যন্ত্র, ৬,৪০০টি জাল ২০ টাকার কয়েন—যার মোট মুখমূল্য ১.২৮ লক্ষ টাকা—এবং প্রায় ৫ লক্ষ টাকা মূল্যের আধা-তৈরি কয়েন উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে ছিল ৩৯টি চিহ্নবিহীন ও ২০টি চিহ্নিত ডাই, ডাই পালিশ করার যন্ত্র, গ্রাইন্ডিং স্টোন, ব্রাশ, ফাইল, হাতুড়ি এবং অন্যান্য সরঞ্জাম।

তদন্তকারীদের বক্তব্য, সোনিপতে প্রায় ১০ মাস ধরে স্ক্রু-ড্রাইভার তৈরির ব্যবসার আড়ালে ওই জাল কয়েন তৈরির ইউনিট চলছিল। দিল্লি পুলিশ ওই চক্রের এক সহযোগীকে গ্রেফতার করার পর অভিযানের আশঙ্কায় ইউনিটটি বন্ধ করে যন্ত্রপাতি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন অভিযুক্তেরা। সাহারানপুরে প্রায় ৫০০ বর্গফুট জায়গায় যন্ত্রপাতি বসানোর পরিকল্পনা ছিল তাঁদের।

পুলিশের দাবি, দিল্লির একটি ইউনিট থেকে অ্যালুমিনিয়াম, তামা ও নিকেলের মিশ্রণে তৈরি কয়েনের মতো দেখতে রিং আনা হত। অন্য একটি দিল্লির ইউনিট থেকে ২০ টাকার কয়েনের নকশার ডাই তৈরি করানো হত। সেই ডাই রিংয়ের উপর চাপিয়ে যন্ত্রের সাহায্যে কয়েনের আকার ও উজ্জ্বলতা দেওয়া হত।

“অভিযুক্তেরা জানিয়েছে, তারা দিনে ১০,০০০ থেকে ১২,০০০ জাল কয়েন তৈরি করতে পারত। প্রতিটি কয়েন তৈরিতে খরচ হত ৫ থেকে ৬ টাকা। তবে যন্ত্রগুলি উদ্ধারের সময় চালু ছিল না। ফলে এই দাবি যাচাই করা সম্ভব হয়নি,” জানিয়েছেন এক পুলিশ আধিকারিক।

পুলিশের অভিযোগ, উপকার কয়েনের শেষ পর্যায়ের কাজ দেখতেন, সন্তোষ উৎপাদনের দায়িত্বে ছিলেন এবং অনুরাগ কারখানার সামগ্রিক কাজ সামলাতেন। তদন্তে উঠে এসেছে, কুলদীপ ও হিমাংশুর দায়িত্ব ছিল কয়েন ছড়িয়ে দেওয়া। অভিযুক্তদের দাবি, ১০০টি কয়েনের একটি প্যাকেট, যার মুখমূল্য ২০০ টাকা, মধ্যস্থতাকারীদের কাছে ১৬০ টাকায় বিক্রি করা হত। পরে যুবকদের মাধ্যমে টোল প্লাজা, ছোট শহর, মদের দোকান এবং গ্রামের ছোট দোকানে ওই কয়েন চালানো হত বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তদন্তকারী আধিকারিক তথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাজীব কুমার কৌশিকের মতে, উপকারই এই চক্রের মূল ব্যক্তি। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি আগে স্বর্ণকারের কাজ করতেন। সেই দক্ষতাকে কাজে লাগিয়েই জাল কয়েন তৈরির পদ্ধতি আরও উন্নত করেছিলেন তিনি। উপকার ও হিমাংশুর পরিচয় তিহার জেলে হয়েছিল বলেও পুলিশের দাবি।

সম্প্রতি বিহার পুলিশের সঙ্গে যৌথ অভিযানে মধুবনী থেকে সন্তোষের ভাই মিথিলেশ চৌরাসিয়া (৫৫)-কে গ্রেফতার করেছে সাহারানপুর পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে কাঁচামাল ও শ্রমিক জোগাড়ের অভিযোগ রয়েছে। কৌশিক জানিয়েছেন, তাঁকে গ্রেফতারের পর এই মামলায় ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছ’য়ে। চক্রের আর এক সদস্য পরস জৈনকে সেপ্টেম্বরে দিল্লি পুলিশ গ্রেফতার করেছিল বলেও জানান তিনি।