গুয়াহাটি, ২ নভেম্বর: SBI-এর একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মাত্র ৪৭ দিনের মধ্যে লক্ষ লক্ষ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের সূত্র ধরে গুয়াহাটি থেকে এক মহিলাসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে অসম পুলিশের Special Task Force (STF)। পুলিশের অভিযোগ, মিউল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে একটি সংগঠিত সাইবার প্রতারণা চক্র চালানো হচ্ছিল। এই চক্রের সঙ্গে পাকিস্তানের Intelligence Operatives-এর সম্ভাব্য যোগসূত্র রয়েছে বলেও সন্দেহ করছে পুলিশ।
কেন্দ্রীয় সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ২৮ অক্টোবর অভিযান শুরু করে STF। পরবর্তী তিন দিনে গুয়াহাটির বিভিন্ন এলাকা থেকে ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়।
ধৃতদের নাম মফিজুল হক (২২), হিমাংশু দাস (১৯), মারজিনা বেগম, রাকিব হুসেন (৩৪), ইফতার হুসেন (২৫) এবং আরমান আজুজ হক (২০)।
অসম পুলিশের বিবৃতি অনুযায়ী, শোণিতপুর জেলা পুলিশের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে STF মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্ত মারজিনা বেগমের SBI অ্যাকাউন্টে ২০২৬ সালের ২২ জুন থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত মাত্র ৪৭ দিনে লক্ষ লক্ষ টাকা জমা পড়েছিল। প্রতিবার টাকা জমা পড়ার পরই প্রায় সঙ্গে সঙ্গে সেই অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছিল। এই লেনদেনের ধরনকে সন্দেহজনক বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
তদন্তে মফিজুল হক ও হিমাংশু দাসের নামও ওই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহজনক লেনদেনে উঠে আসে। এই লেনদেনের সঙ্গে পাকিস্তানের এক Intelligence Operative-এর যোগ থাকতে পারে বলে সন্দেহ পুলিশের।
২৮ অক্টোবরের অভিযানে মারজিনা বেগমসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও আপত্তিকর নথিপত্র উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জেরার সময় মফিজুল ও হিমাংশু এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত আরও কয়েকজনের নাম জানান বলে পুলিশের দাবি। সেই সূত্র ধরে ২৯ অক্টোবর রাকিব হুসেন এবং ৩০ অক্টোবর ইফতার হুসেন ও আরমান আজুজ হককে গ্রেফতার করা হয়।
সাইবার প্রতারণা চক্রের বিস্তার এবং পাকিস্তানের সঙ্গে সন্দেহভাজন যোগসূত্র খতিয়ে দেখতে STF-এর তদন্ত চলছে।