৩ নভেম্বর: অসমের ডিব্রু-সৈখোয়া জাতীয় উদ্যানের নিচে Extended Reach Drilling (ERD) প্রযুক্তির মাধ্যমে হাইড্রোকার্বন অনুসন্ধানের প্রস্তাব খারিজের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে Oil India Limited (OIL)-এর দায়ের করা আবেদনে পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক এবং অসম সরকারের জবাব চেয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়। জাতীয় উদ্যানের নিচে হাইড্রোকার্বন অনুসন্ধানের প্রস্তাব অনুমোদন না করার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে OIL।
কোম্পানির পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী রাকেশ দ্বিবেদী আদালতে জানান, প্রস্তাবিত ERD প্রযুক্তির মাধ্যমে ৪,০০০ মিটারেরও বেশি গভীরতায় খনন করা সম্ভব এবং এতে জাতীয় উদ্যানের উদ্ভিদ ও বন্যপ্রাণীর ক্ষতি হবে না। তাঁর দাবি, ডিব্রু-সৈখোয়া জাতীয় উদ্যানের আশপাশের এলাকায় ভারতের মোট হাইড্রোকার্বন ভাণ্ডারের প্রায় তিন শতাংশ রয়েছে।
এই প্রকল্পের জন্য অসমের তিনসুকিয়া জেলায় ০.০৬৯ হেক্টর বনভূমি অন্য কাজে ব্যবহারের অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু Forest Advisory Committee প্রস্তাবটি অনুমোদন করেনি। পরবর্তী সময়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রকও অনুমতি দিতে অস্বীকার করে। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে OIL।
কোম্পানির যুক্তি, ERD প্রযুক্তিতে সংরক্ষিত এলাকার বাইরে ড্রিলিং প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে মাটির নিচে অনুভূমিকভাবে খনন চালানো যায়। তাই এই প্রক্রিয়াকে প্রচলিত খননকাজের সমতুল্য হিসেবে দেখা উচিত নয় বলে দাবি করেছে OIL। তবে আদালত এখনও এই যুক্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জমা দেওয়া গবেষণা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত নথির ভিত্তিতে প্রস্তাবটি বিবেচনা করার ইঙ্গিত দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আগামী ১৭ নভেম্বরের পর মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২৬ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের এক নির্দেশে জাতীয় উদ্যান ও বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের ভিতরে এবং সীমানা থেকে এক কিলোমিটারের মধ্যে খননকাজ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।