৪ নভেম্বর: আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি বড় ধাক্কা খাওয়ার পর ভারতেও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া সামনে এসেছে। মার্কিন প্রতিনিধি সভা এবং সেনেট—দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে কটাক্ষ করেছেন Cockroach Janata Party (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক।
সামাজিক মাধ্যম X-এ অভিজিৎ দীপক লিখেছেন, “জ্ঞানেশ কুমার থাকলে ট্রাম্পের সঙ্গে এমনটা কখনও হতে দিতেন না।” তাঁর এই মন্তব্যকে ভারতের নির্বাচন কমিশন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা নিয়ে ব্যঙ্গ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অভিজিৎ দীপক ও তাঁর সহযোগীরা ভারতের নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে আগেও একাধিকবার প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন BJP-কে নির্বাচনী সুবিধা দেয়। তবে এগুলি তাঁদের রাজনৈতিক অভিযোগ।
‘বিশ্বজুড়ে স্বৈরাচারী হওয়ার চেষ্টাকারীদের জন্য কঠিন সময়’
অন্যদিকে, CJP-র মুখপাত্র সৌরভ দাসও মার্কিন নির্বাচনের ফল নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। X-এ তিনি লিখেছেন, ট্রাম্পের দল মার্কিন প্রতিনিধি সভা ও সেনেট—দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে। তাঁর মতে, বিশ্বজুড়ে যারা স্বৈরাচারী হয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন, তাঁদের জন্য সময় কঠিন হয়ে উঠছে।
সৌরভ দাস আরও বলেছেন, স্বৈরাচারী রাজনীতির বিরুদ্ধে লড়াই শুধু নির্বাচনে জয় বা পরাজয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। নির্বাচনের পরেও ক্ষমতায় থাকা নেতা, তাঁদের সহযোগী এবং তাঁদের সাহায্যকারীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।
তাঁর মতে, ‘শক্তিশালী নেতা’র ভাবমূর্তির চেয়ে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, জবাবদিহি এবং সাধারণ মানুষের সমস্যার গুরুত্ব বাড়ছে। ভোটাররা এখন ঘৃণার রাজনীতির পরিবর্তে কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং মূল্যবৃদ্ধি থেকে স্বস্তির মতো মৌলিক বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
মার্কিন নির্বাচনের ফলাফলকে ঘিরে অভিজিৎ দীপক ও সৌরভ দাসের এই মন্তব্য ভারতের নির্বাচনী প্রক্রিয়া, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং রাজনৈতিক জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।