নয়াদিল্লি, ৪ নভেম্বর: পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের আবহে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ভারতকে বিশেষ ছাড় দিয়েছে ইরান। ভারত ছাড়াও চিন, ইরাক ও কাতারের বাণিজ্যিক জাহাজকে এই জলপথে চলাচলের নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের এক প্রভাবশালী সাংসদ।

ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশনীতি কমিটির উপ-প্রধান আমির হায়াত-মোগাদ্দাম জানিয়েছেন, এই চার দেশের জাহাজ হরমুজ প্রণালী দিয়ে অবাধে যাতায়াত করতে পারবে। আমেরিকাও এই জাহাজগুলিকে বাধা দিচ্ছে না বলে দাবি করেছেন তিনি। মঙ্গলবার Iranian Students' News Agency-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই কথা জানান তিনি।

হায়াত-মোগাদ্দামের বক্তব্য, ভারতীয় জাহাজকে ছাড় দেওয়ার মূল উদ্দেশ্য হল ভারত থেকে ওষুধ আমদানি সহজ করা। অন্যদিকে, চিনের জাহাজকে ছাড় দেওয়ার পিছনে বেজিংয়ের রাজনৈতিক সমর্থন পাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, ভারত ও চিনের জাহাজ থেকে ইরান যাতায়াতের মাশুল আদায় করে। তবে কাতারের জাহাজ বিনা মাশুলে যাতায়াত করতে পারে। ইরাকের জাহাজের ক্ষেত্রে কোনও মাশুল নেওয়া হয় কি না, তা স্পষ্ট করেননি তিনি।

ভারত তার প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানি করে। এর মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ তেল বর্তমানে হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত শুরু হওয়ার পর রাশিয়া, আমেরিকা, পশ্চিম আফ্রিকা এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ফুজাইরা থেকে তেল কেনা বাড়িয়েছে ভারত। ফলে এই জলপথের উপর নির্ভরতা আগের তুলনায় কমেছে।

তবে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালী এখনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের LPG আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশ এই জলপথ দিয়ে আসে। কাতার ও UAE থেকে আমদানি করা LNG-র ৫০ শতাংশেরও বেশি এই পথেই পরিবহণ করা হয়। সার আমদানির ক্ষেত্রেও এই জলপথ গুরুত্বপূর্ণ।

ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করার পর থেকে ভারত আন্তর্জাতিক জলপথে অবাধ জাহাজ চলাচল এবং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার দাবি জানিয়ে আসছে।

ইরান ও ওমানের মাঝখানে অবস্থিত হরমুজ প্রণালী দিয়ে পশ্চিম এশিয়া থেকে সমুদ্রপথে বিশ্ববাজারে সরবরাহ হওয়া অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২৫ শতাংশ পরিবহণ করা হয়।

এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, ইরানের Islamic Revolutionary Guard Corps Navy জাহাজগুলিকে নিরাপদে যাতায়াতের জন্য পরিচয়, পণ্য এবং গন্তব্যস্থল সংক্রান্ত তথ্য দিতে বাধ্য করার ব্যবস্থা চালু করেছে।

International Maritime Organization-এর তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতের সময় ফেব্রুয়ারি থেকে আগস্টের মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজের উপর অন্তত ৭০টি হামলা হয়েছে। ওই হামলায় ১৯ জন নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতে এখনও পর্যন্ত নিহত ২৪ জন ভারতীয়ের মধ্যে ১৫ জনই নাবিক।