বিশ্বে 11-17 বছর বয়সি প্রায় 24 কোটি কিশোর-কিশোরী সপ্তাহের কোনও দিনই অন্তত 60 মিনিট মাঝারি থেকে তীব্র শারীরিক সক্রিয়তায় অংশ নেয় না। ‘দ্য ল্যানসেট গ্লোবাল হেলথ’-এ প্রকাশিত নতুন সমীক্ষার হিসাবে, প্রতি 4 জনের 1 জনেরও বেশি কিশোর-কিশোরীর দৈনিক শরীরচর্চা নেই।
140টি দেশ ও অঞ্চলের 389টি জনভিত্তিক সমীক্ষা, যাতে 32 লক্ষের বেশি কিশোর-কিশোরী ছিলেন, তার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গড়ে সপ্তাহে মাত্র 2.7 দিন তাঁরা সক্রিয় থাকেন। প্রতিদিন শরীরচর্চা করে বলে জানিয়েছে মাত্র 14%। গত 15 বছরে এই ছবিতে কার্যত কোনও বদল হয়নি।
লিঙ্গভিত্তিক ফারাকও স্পষ্ট। সপ্তাহে এক দিনও সক্রিয় ছিল না 28% মেয়ে, যেখানে ছেলেদের ক্ষেত্রে হার 22%। প্রতিদিন সক্রিয় থাকার কথা জানিয়েছে 11% মেয়ে এবং 17% ছেলে। প্রায় সব দেশ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সব অঞ্চলেই মেয়েদের সক্রিয়তা ছেলেদের চেয়ে কম পাওয়া গিয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক ড. টেড্রস আধানম গেব্রিয়েসুসের বক্তব্য, কিশোর-কিশোরীদের শুধু আরও চেষ্টা করতে বললে হবে না। স্কুল, রাস্তা এবং পাড়ার পরিবেশ এমন করতে হবে, যাতে খেলাধুলো ও চলাফেরা নিরাপদ, সহজ এবং স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।
2018 সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সদস্য দেশগুলি 2030 সালের মধ্যে শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা 15% কমানোর লক্ষ্য নেয়। এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটি ফর হেলথ রিসার্চ সেন্টারের চ্যান্সেলরস ফেলো তথা সমীক্ষার লেখক টেসা স্ট্রেন জানিয়েছেন, কোনও দেশই এখন সেই লক্ষ্যে পৌঁছনোর পথে নেই।
প্রতিনিধিত্বমূলক জাতীয় বা বড় উপ-জাতীয় সমীক্ষার অভাবে এই বিশ্লেষণে ভারতকে রাখা যায়নি। গবেষকেরা 2008 সালের পরের 15টির বেশি ভারতীয় সমীক্ষা খতিয়ে দেখলেও, প্রতিটির ক্ষেত্রেই অন্তত একটি কারণে তা বাদ দিতে হয়েছে। ফলে দেশের কিশোর-কিশোরীদের শারীরিক সক্রিয়তা নিয়ে তুলনাযোগ্য নির্ভরযোগ্য তথ্যের ঘাটতি রয়ে গেল।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, স্কুলে বিশেষত মেয়েদের জন্য খেলাধুলো, সক্রিয় বিনোদন ও শরীরচর্চার সুযোগ নিশ্চিত করা দরকার। নিরাপদ হাঁটা ও সাইকেলপথ, পার্ক এবং সহজলভ্য খোলা জায়গাও জরুরি। এখন নজর থাকবে, 2030-এর লক্ষ্য সামনে রেখে দেশগুলি স্কুল, পরিবহণ ও নগর পরিকল্পনায় কতটা বদল আনে।