কর্নাল, ৫ নভেম্বর: ‘ভোট চুরি’ বিতর্কের আবহে বৃহস্পতিবার কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে তীব্র আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সংসদের কাজকর্মে বাধা দেওয়া এবং রাজনৈতিক সংঘাতকে রাস্তায় নামিয়ে ‘অরাজকতা ছড়ানোর’ চেষ্টা করছেন রাহুল, এমনই অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

হরিয়ানার কর্নালে বিজেপির ‘লোকতন্ত্র বচাও, অরাজকতা হটাও’ প্রচার কর্মসূচির সমাপ্তি সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে কংগ্রেসের প্রতিবাদ কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শাহ। বিরোধীরা যেখানে জনসমাগম করবে, সেখানেই বিজেপি কর্মীরা ‘উপযুক্ত জবাব’ দেবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

অমিত শাহ বলেন, গণতন্ত্রে আলোচনা ও মতবিনিময়ের সর্বোচ্চ মঞ্চ হল সংসদ। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, রাহুল গান্ধী সংসদ চলতে দিচ্ছেন না এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনাতেও অংশ নিচ্ছেন না।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিযোগ, সংসদে হইচই ও অধিবেশন বয়কট করাকে কংগ্রেস রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ করে তুলেছে। সংসদের কাজকর্ম চলতে না দিয়ে বিরোধীরা রাস্তায় জমায়েত করে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে বলেও দাবি করেন তিনি।

রাহুল গান্ধীকে উদ্দেশ্য করে শাহ বলেন, দেশের ৮০ বছরের গণতন্ত্র এ ধরনের কৌশলে প্রভাবিত হবে না। সংসদ, রাজ্য বিধানসভা, গ্রাম, মাঠ এবং রাজপথ—সব জায়গাতেই বিজেপি বিরোধীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মোকাবিলা করবে বলে জানান তিনি।

শাহ বলেন, বিরোধীরা যদি জনসমাগম করতে থাকে, তবে বিজেপি কর্মীরা সেখানে উপস্থিত থেকে ‘উপযুক্ত জবাব’ দেবেন।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিজেপির এই প্রচার কর্মসূচির প্রথম পর্ব ২২ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দলের কার্যালয়ে চলেছে। এই কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতি সাধারণ মানুষের ব্যাপক উৎসাহ ও সমর্থন দেখা গিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সভায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মনোহর লাল খট্টর, হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী নয়াব সিং সাইনি এবং বিজেপি নেত্রী স্মৃতি ইরানি। তাঁরা কর্নালে আয়োজিত পদযাত্রাতেও অংশ নেন।

এদিকে, মনোহর লাল খট্টর কংগ্রেস ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে দেশবিরোধী শক্তিকে প্রতিনিধি হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ তুলেছেন। বিদেশি অর্থে পরিচালিত কিছু সংগঠন দেশে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে বলেও দাবি করেন তিনি।

বিজেপির প্রচার কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্ব চলবে ১১ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। এই পর্বে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR), ভোটার তালিকার নির্ভুলতা এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নিয়ে জনসচেতনতা তৈরির উপর জোর দেওয়া হবে।