শিলিগুড়ি, ৫ নভেম্বর: অসমে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের সুরক্ষা দিতে কংগ্রেস তাদের শাসনকালে ষড়যন্ত্র করেছিল বলে অভিযোগ করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল। বৃহস্পতিবার শিলিগুড়িতে এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি ১৯৮৩ সালে চালু হওয়া আইএমডিটি আইনকে অসমে অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ে কংগ্রেসের নীতির উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।

সোনোয়ালের অভিযোগ, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে দেশ থেকে বহিষ্কারের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে কংগ্রেস সরকার তাঁদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য আইন চালু করেছিল। তাঁর দাবি, ১৯৮৩ সালে আইএমডিটি আইন প্রণয়ন ভারতীয় নাগরিকদের স্বার্থের পরিপন্থী একটি বড় পদক্ষেপ ছিল।

অসমের ছয় বছরব্যাপী আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, বিদেশি অনুপ্রবেশ এবং আইএমডিটি আইনকে ঘিরে রাজ্যে ব্যাপক প্রতিবাদ গড়ে উঠেছিল। আন্দোলনের মূল দাবি ছিল, বিদেশিদের চিহ্নিত করা, ভোটার তালিকা থেকে তাঁদের নাম বাদ দেওয়া এবং আইন অনুযায়ী দেশ থেকে বহিষ্কার করা।

সোনোয়ালের দাবি, অসমের মানুষ এবং বৃহত্তর ভারতীয় সমাজ বারবার এই দাবি জানালেও কংগ্রেস তা পূরণ করতে আন্তরিক পদক্ষেপ করেনি। আইএমডিটি আইনকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্টের বাতিল করার সিদ্ধান্তের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, এই রায় কংগ্রেসের নীতির ব্যর্থতার প্রমাণ।

এরপর জাতীয় নিরাপত্তার প্রসঙ্গ তুলে কংগ্রেসকে আক্রমণ করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেসের শাসনকালে ভারতের উপর একাধিক হামলার যথাযথ জবাব দিতে ব্যর্থ হয়েছিল তৎকালীন সরকার। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকার পাকিস্তানের হামলার কড়া জবাব দিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

গত ১২ বছরে দেশের উন্নয়ন ও পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে সোনোয়াল বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে দেশে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তাঁর দাবি, এই সময়ে ভারতের আত্মবিশ্বাস ও জাতীয় স্বাভিমান আরও শক্তিশালী হয়েছে। মোদীর নেতৃত্বে দেশের নিরাপত্তা এবং উন্নয়ন দু’টিই নিশ্চিত হবে বলে মানুষের মধ্যে বিশ্বাস তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং তাঁর সহযোগীদেরও নিশানা করেন সোনোয়াল। তাঁর অভিযোগ, দেশে উন্নয়ন ও পরিবর্তনের ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হওয়া সত্ত্বেও রাহুল গান্ধী এবং তাঁর সহযোগীরা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে উন্নয়নের ধারাকে ব্যাহত করার চেষ্টা করছেন।

দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকেও কংগ্রেস দারিদ্র্য দূর করতে পারেনি বলে অভিযোগ করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তাঁর দাবি, দলটি অর্থবহ উন্নয়নমূলক কর্মসূচি শুরু করতেও সফল হয়নি। বিভিন্ন রাজ্যে কংগ্রেসের শাসনকালে হিংসা এবং গণতন্ত্রকে দুর্বল করার ষড়যন্ত্রের জন্যও দলটিকে দায়ী করেন তিনি।

সোনোয়ালের বক্তব্য, কংগ্রেসের শাসনকালের কাজকর্ম নিয়ে সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুললে দলের নেতাদের কাছে তার উপযুক্ত জবাব থাকে না। আত্মনির্ভর ভারত গড়ে তোলা এবং দেশকে উন্নত ও শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্য সামনে রেখে ভারতের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার কথাও বলেন তিনি।