নয়াদিল্লি, ৫ নভেম্বর: যন্তর-মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলায় বৃহস্পতিবার দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চে হাজির হন ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস ও আশুতোষ রঙ্কা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সকাল প্রায় ১১টা নাগাদ তাঁরা রাজৌরি গার্ডেনের ক্রাইম ব্রাঞ্চের দফতরে পৌঁছন। সেখানে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারী আধিকারিকেরা।

১৩ অক্টোবর যন্তর-মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত দুটি এফআইআরের ভিত্তিতে এই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অভিযোগ, প্রতিবাদস্থলে প্রবেশ করে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছিলেন ওই কর্মীরা। এই ঘটনায় কনট প্লেস এবং সংসদ মার্গ থানায় দুটি মামলা দায়ের হয়েছিল। পরে তদন্তের দায়িত্ব ক্রাইম ব্রাঞ্চের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

১৩ অক্টোবর ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে যন্তর-মন্তরে প্রতিবাদে সামিল হয়েছিলেন ককরোচ জনতা পার্টির সদস্যরা। সেই কর্মসূচিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধেও স্লোগান দেওয়া হয়। সৌরভ দাস, আশুতোষ রঙ্কা, অজিঙ্ক্য শিন্দে-সহ আরও ১১ জন ওই প্রতিবাদে অংশ নেন।

পুলিশের অভিযোগ, যন্তর-মন্তরকে নির্দিষ্ট প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। তা সত্ত্বেও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সেখানে প্রবেশ করেছিলেন প্রতিবাদকারীরা। দিল্লি পুলিশ তাঁদের আটক করে। পরে সৌরভ দাস ও আশুতোষ রঙ্কাকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়।

প্রায় এক সপ্তাহ বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকার পর ২১ অক্টোবর তিহাড় জেল থেকে মুক্তি পান ওই দুই নেতা। বিশেষ কার্যনির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে তাঁরা ৫০ হাজার টাকা করে ব্যক্তিগত বন্ড এবং জামিনদারির বন্ড জমা দেন।

মুক্তির শর্ত হিসেবে তাঁরা শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং আইন মেনে চলার লিখিত অঙ্গীকার করেন। আইন অনুযায়ী যন্তর-মন্তরকে পুনরায় প্রতিবাদস্থল হিসেবে নির্ধারণ না করা পর্যন্ত সেখানে কোনও প্রতিবাদের ডাক দেবেন না বলেও তাঁরা জানান। ভবিষ্যতে কোনও প্রতিবাদ হলে তা সংবিধানের আওতায় থেকেই করা হবে বলেও অঙ্গীকার করেন তাঁরা।

এর আগে ২২ অক্টোবর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সৌরভ দাস ও আশুতোষ রঙ্কাকে তলব করেছিল ক্রাইম ব্রাঞ্চ। কিন্তু সেদিন তাঁরা হাজির হননি এবং আরও সময় চেয়েছিলেন। নতুন করে তলবের পর বৃহস্পতিবার রাজৌরি গার্ডেনের দফতরে হাজির হন দু’জন।

মামলার তদন্ত এখনও চলছে। প্রতিবাদ কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে কী তথ্য উঠে এসেছে, তা নিয়ে প্রকাশের সময় পর্যন্ত বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।