নয়াদিল্লি, ৫ নভেম্বর: ২০২৩ সালে আমেরিকায় শিখ সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে মন্তব্যের জেরে কংগ্রেস নেতা তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দিতে অস্বীকার করল এলাহাবাদ হাইকোর্ট।

বিচারপতি বিক্রম ডি চৌহানের বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এই রায় দেয়। আদালত জানায়, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির কোনও সম্প্রদায়ের অধিকার ও উদ্বেগের বিষয়গুলি তুলে ধরার অধিকার রয়েছে। তাঁর মতামতের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করলেই তা অপরাধ হয়ে যায় না।

আদালতের পর্যবেক্ষণ, রাহুল গান্ধীর কথিত মন্তব্য প্রাথমিকভাবে সমাজের একটি অংশের উদ্বেগ তুলে ধরেছিল। ২০২৩ সালে আমেরিকা সফরের সময় তিনি ভারতে শিখ সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। শিখরা পাগড়ি পরতে এবং গুরুদ্বারে যেতে পারবেন কি না, সেই প্রশ্নও করেছিলেন তিনি।

হাইকোর্ট জানায়, সংবিধানের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদে স্বীকৃত বাক্‌স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারের আওতায় এ ধরনের বক্তব্য সুরক্ষিত। কোনও বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত থাকলেই তাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যায় না। মতপার্থক্য গণতন্ত্রেরই অংশ।

আবেদনকারীদের অভিযোগ ছিল, রাহুল গান্ধীর বক্তব্য উসকানিমূলক এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৫২ নম্বর ধারায় অপরাধের আওতায় পড়ে। তাঁদের যুক্তি ছিল, এক বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতার তরফে ওই বক্তব্যকে সমর্থন করা থেকে হিংসা ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হয়।

তবে আদালত জানায়, শুধুমাত্র সন্দেহের ভিত্তিতে কারও বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চালানো যায় না। রাহুল গান্ধীর কথিত বক্তব্যে হিংসায় উসকানি বা জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কার পক্ষে প্রাথমিকভাবে কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

আদালত আরও উল্লেখ করে, আবেদনকারীরা কথিত ভাষণের তারিখ, সময় ও স্থান জানাতে পারেননি। এমনকি ভাষণের সম্পূর্ণ প্রতিলিপিও জমা দেননি তাঁরা। প্রায় দু’বছরের আইনি প্রক্রিয়ার পরেও ওই বক্তব্যের ফলে ভারতের সার্বভৌমত্ব, ঐক্য ও অখণ্ডতার জন্য বিপজ্জনক কোনও কার্যকলাপ ঘটেছে বলে প্রমাণ করতে পারেননি আবেদনকারীরা।

এর আগে বারাণসীর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এবং দায়রা আদালতও রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দিতে অস্বীকার করেছিল। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন আবেদনকারীরা।