নয়াদিল্লি, ৫ নভেম্বর: যৌন হয়রানি ও পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগে মণিপুরের কংগ্রেস সাংসদ এবং জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) বরখাস্ত অধ্যাপক আংগোমচা বিমল আকোইজামকে গ্রেফতার-সহ কোনও জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপ করার আগে সাত কর্মদিবসের লিখিত নোটিস দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে দিল্লির একটি আদালত।
৫ নভেম্বর বিশেষ বিচারক দিগ বিনয় সিং আকোইজামের আগাম জামিনের আবেদন নিষ্পত্তি করে এই নির্দেশ দেন। আদালত জানিয়েছে, নোটিস সরাসরি হাতে বা শারীরিকভাবে পৌঁছে দিতে হবে; ইলেকট্রনিক মাধ্যমে নোটিস পাঠানো যাবে না।
দিল্লি পুলিশ আদালতকে জানিয়েছে, অভিযোগের প্রকৃতি এবং তদন্তের বর্তমান পর্যায় বিবেচনা করে আপাতত আকোইজামকে গ্রেফতারের কোনও পরিকল্পনা নেই। তবে পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে এবং গ্রেফতার বা হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন দেখা দিলে সাত কর্মদিবস আগে নোটিস দিতে হবে।
আদালত জানিয়েছে, আকোইজামের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি এবং পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগ রয়েছে। এফআইআরে উল্লেখিত অপরাধগুলির সর্বোচ্চ শাস্তি তিন বছরের কারাদণ্ড, যদিও কয়েকটি অপরাধ জামিন-অযোগ্য।
তদন্তকারী আধিকারিক আদালতকে জানান, জেএনইউ কর্তৃপক্ষ অভিযোগকারীদের পরিচয় ও বিস্তারিত তথ্য পুলিশকে না দেওয়ায় এখনও কোনও অভিযোগকারীর বয়ান নেওয়া যায়নি। প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।
আদালত আকোইজামের বিরুদ্ধে পূর্বে কোনও অপরাধের রেকর্ড না থাকা এবং সমন পাওয়ার পর দ্রুত তদন্তে যোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করেছে। তদন্তে সহযোগিতা করা এবং ডাকলে তদন্তকারীর সামনে হাজির হওয়ার শর্তে তাঁকে এই সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে।
কী অভিযোগ উঠেছে?
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৮ মে ১৬ জন অভিযোগকারী—যাঁদের মধ্যে পুরুষ ও মহিলা উভয়েই রয়েছেন—জেএনইউ কর্তৃপক্ষের কাছে যৌথ অভিযোগ জমা দেন। এরপর কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের যৌন হয়রানি প্রতিরোধ আইন, ২০১৩ অনুযায়ী একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
১৬ জনের মধ্যে ১৫ জন অভিযোগকারী কমিটির সামনে নিজেদের বক্তব্য পেশ করেন। স্বাধীন সাক্ষী এবং অভিযুক্তের পক্ষে সাক্ষীদেরও বক্তব্য নেওয়া হয়। কমিটি অভিযোগগুলি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছে বড় ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সুপারিশ করে। এরপর জেএনইউ আকোইজামের চাকরি বাতিল করে।
অভিযোগকারীদের দাবি, বৈঠক বা অনুষ্ঠানের অজুহাতে আকোইজাম ছাত্রছাত্রীদের বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে তাঁর বাসভবনে ডাকতেন এবং তাঁদের যৌন হয়রানির চেষ্টা করতেন। কয়েকজন ছাত্রছাত্রী ক্লাসের মধ্যেও অশালীন ও অনুপযুক্ত মন্তব্য করার অভিযোগ তুলেছেন।
জেএনইউয়ের প্রধান নিরাপত্তা আধিকারিকের অভিযোগ ও নথির ভিত্তিতে ১২ অক্টোবর দিল্লি পুলিশ এফআইআর দায়ের করে।
আকোইজাম তাঁর চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্তকে ‘উইচ হান্ট’ বলে অভিহিত করেছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত প্রক্রিয়ার যথাযথতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
এদিকে, ২ নভেম্বর দিল্লি হাইকোর্ট জেএনইউয়ের বরখাস্তের সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ দেয় এবং আকোইজামের আবেদনের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়কে নোটিস পাঠায়। জানুয়ারিতে মামলাটির পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা।
জেএনইউ থেকে বরখাস্তের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া এবং দিল্লি পুলিশের ফৌজদারি তদন্ত পৃথকভাবে চলছে।