পাকিস্তানের করাচি থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে আরব সাগরের চরনা দ্বীপে লস্কর-ই-তইবা জঙ্গিদের সামুদ্রিক অভিযানের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গোয়েন্দা সূত্রের তথ্যের উল্লেখ করে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, লস্করের সামুদ্রিক শাখা ‘দাওয়া মেরিন উইং’ ওরফে ‘সাদা-এ-হুরিয়ত’ এই প্রশিক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে। স্কুবা ডাইভিং, জলের তলায় অভিযান এবং কমব্যাট সুইমিংয়ের মতো কৌশল শেখানো হচ্ছে বলে দাবি।

অভিযোগ, নজর এড়াতে প্রশিক্ষণ নিতে আসা ব্যক্তিদের সাধারণ পর্যটক হিসেবে পরিচয় করানো হচ্ছে। চরনা দ্বীপে প্রতিদিন বহু পর্যটকের যাতায়াত থাকে। সেই ভিড়কে কাজে লাগিয়ে গোপনে প্রশিক্ষণ চালানোর কথা বলা হয়েছে প্রতিবেদনে।

এলাকাটি পাকিস্তানের নৌসেনার ফায়ারিং রেঞ্জ হিসেবেও ব্যবহৃত হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

এর আগে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের মঙ্গল বাঁধের কাছে লস্করের একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সেই কেন্দ্রটি ধ্বংস হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এরপর প্রশিক্ষণের স্থান চরনা দ্বীপে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।

২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর মুম্বইয়ে জঙ্গি হামলার সময় লস্করের সদস্যরা সমুদ্রপথে ভারতে প্রবেশ করেছিল। সেই ঘটনার কথা মাথায় রেখে নতুন করে সামুদ্রিক প্রশিক্ষণের অভিযোগ উপকূলীয় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

তবে চরনা দ্বীপে এই প্রশিক্ষণ চলছে কি না, তার স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া তথ্য প্রতিবেদনে নেই। পাকিস্তান সরকারের কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়নি।