গুয়াহাটি: দীপাবলির দিন উপর অসমে ফের বেআইনি কয়লা পাচার শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করলেন রাইজর দল সভাপতি তথা শিবসাগরের বিধায়ক অখিল গগৈ। তাঁর দাবি, শিবসাগর ও নজিরা বিধানসভা এলাকার তিনটি জায়গায় ৩০ থেকে ৪০টি কয়লাবোঝাই ট্রাক দাঁড়িয়ে রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা এবং ডিজিপিকে উদ্দেশ করে সমাজমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় অখিলের অভিযোগ, মেঘালয় থেকে আমগুড়ি হয়ে নাগাল্যান্ডের তুলি রেলস্টেশনে কয়লা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। রেলপথে পরিবহণের অনুমতি না মেলায় ঝাঁজি ও হাহচরার মাঝের এলাকায় গত তিন দিন ধরে ট্রাকগুলি দাঁড়িয়ে ছিল বলে তাঁর দাবি।
তাঁর আরও অভিযোগ, তেওকে সঞ্জু দত্তের মালিকানাধীন একটি তেল ডিপো এবং যোরহাটের মেলেং টোলগেটের কাছেও কয়েকটি ট্রাক দাঁড়িয়ে ছিল। যোরহাটের পুলিশ সুপার এবং তেওক পুলিশ ওই গাড়িগুলির বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করেনি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অখিল জানান, রাইজর দলের কর্মীরা ট্রাকগুলির উপর নজর রাখছিলেন। পরিবহণকারীরা তাঁর কাছে এই তথ্য পৌঁছনোর কথা জানতে পারার পর আগের রাতে ঝাঁজি-হাহচরার মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকগুলি যোরহাটের দিকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় বলে তাঁর অভিযোগ।
নাগাল্যান্ডে বেআইনি কয়লা খনন এবং দিখৌ নদীর তীরে বেআইনি পাথর ও বালি তোলার জেরেই নজিরা, শিবসাগর, সোনারি, মাহমোরা, দিমৌ ও মারিয়ানি বিধানসভা এলাকায় ভয়াবহ বন্যা হয়েছে বলে দাবি করেন অখিল। এই বন্যার ঘটনায় তিনি বার বার সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বলেও জানান।
জলসম্পদমন্ত্রী তথা দিমৌয়ের বিধায়ক সুশান্ত বরগোহাঁই, সোনারির বিধায়ক ধর্মেশ্বর কনওয়ার এবং নজিরার বিধায়ক ময়ূর বরগোহাঁই বেআইনি খননকার্যে জড়িত বলেও অভিযোগ করেন অখিল। ট্রাকগুলি অবিলম্বে বাজেয়াপ্ত করা, অভিযুক্ত পরিবহণকারীদের আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠানো এবং কয়লা নিলামের দাবি জানিয়েছেন তিনি। পদক্ষেপ না হলে কথিত কয়লা চক্রে মুখ্যমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী জয়ন্ত মল্লবরুয়ার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে বলেও তাঁর দাবি।