সাঙ্গরুর, ৪ নভেম্বর: পাঞ্জাবের সাঙ্গরুরে বুধবার কংগ্রেসের ‘ইনসাফ র্যালি’তে প্রয়াত পাঞ্জাবি গায়ক সিধু মুসেওয়ালার হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তিনি গায়কের বাবা বলকৌর সিং সিদ্ধুকে মঞ্চে আমন্ত্রণ জানান। রাহুল বলেন, মুসেওয়ালার হত্যার পেছনে যে মানসিকতা কাজ করেছিল, তা এখন পাঞ্জাবের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে।
মুসেওয়ালার সঙ্গে তাঁর প্রথম সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করে রাহুল গান্ধী বলেন, সেই সময় তিনি গায়ককে চিনতেন না। তাঁকে জানানো হয়েছিল, মুসেওয়ালা একজন ভালো যুবক ও সংগীতশিল্পী এবং কংগ্রেসে যোগ দিতে চান। পরে তাঁর গান শুনে তিনি মুগ্ধ হয়েছিলেন বলেও জানান রাহুল।
মুসেওয়ালাকে প্রতিভাবান ও উদ্যমী যুবক হিসেবে উল্লেখ করে রাহুল বলেন, কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার সময় তাঁর মনে হয়েছিল, গায়ককে রাজনৈতিক সুরক্ষা দেওয়া প্রয়োজন। তাঁর অভিযোগ, পরে মুসেওয়ালা হুমকি পেতে শুরু করেন এবং তাঁর নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হয়। এরপর পাঞ্জাবে দিনের আলোয় গাড়ির ভিতরে থাকা অবস্থায় তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, মুসেওয়ালার হত্যার পেছনের মানসিকতা এখন পাঞ্জাবের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। নিজের প্রতিভা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে এবং পাঞ্জাব ও দেশের জন্য কাজ করতে চাওয়া তরুণদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে, ভয় দেখানো হচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
পাঞ্জাবে মাদক সমস্যার প্রসঙ্গেও আম আদমি পার্টির সরকারকে আক্রমণ করেন কংগ্রেস নেতা। মাদক নির্মূলের প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি জানতে চান, রাজ্যের কোন এলাকা থেকে এই সমস্যা দূর করতে পেরেছে সরকার। রাহুল বলেন, পাঞ্জাবের শিল্প, কারখানা এবং শক্তিশালী কৃষি অর্থনীতি প্রয়োজন। এগুলির অভাবে মাদক ও গ্যাংস্টারদের দৌরাত্ম্য বাড়তে পারে।
২০২৭ সালের পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ৪ নভেম্বর সাঙ্গরুরের এই ‘ইনসাফ র্যালি’র মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছে কংগ্রেস। সভায় কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেও উপস্থিত ছিলেন।