ইন্দোর, ৪ নভেম্বর: দেশের বিভিন্ন প্রান্তে Gen Z-র প্রতিবাদ আন্দোলনের পিছনে ষড়যন্ত্র থাকার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসাবালে। তাঁর অভিযোগ, দেশের ভিতরে ও বাইরে সক্রিয় কিছু অরাজক শক্তি তরুণদের উসকানি দিয়ে সমাজে অশান্তি ও বিভাজনের পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করছে।

ইন্দোরে RSS-এর অখিল ভারতীয় কার্যকরী মণ্ডলের বৈঠকের পাশে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এই মন্তব্য করেন হোসাবালে। তাঁর বক্তব্য, বিশ্বের অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা থেকে এই ধরনের প্রতিবাদের পিছনে ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে তরুণদের উত্থাপিত সমস্যাগুলিকে শুধুমাত্র দেশবিরোধী কার্যকলাপ বলে খারিজ করা উচিত নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

হোসাবালের মতে, তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভ, সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা শোনা জরুরি। প্রতিটি প্রজন্মের তরুণদের মধ্যে তাদের সময়ের প্রচলিত ব্যবস্থা ও ধারণার বিরুদ্ধে অসন্তোষ তৈরি হয়। সেই অসন্তোষকে ইতিবাচক পথে পরিচালিত করা উচিত। রাজনৈতিক স্বার্থ, সমাজে বিভাজন কিংবা হিংসা ছড়ানোর জন্য তরুণদের ক্ষোভকে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ ভুল বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ব্যক্তিগত সমস্যা হোক বা সামাজিক অন্যায়—যে কোনও বিষয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার অধিকার তরুণদের রয়েছে। নিজেদের সমস্যার সমাধানের জন্য প্রশাসনের কাছে পদক্ষেপের দাবি জানানোর অধিকারও তাঁদের আছে। তাই তরুণদের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

RSS-এর ইন্দোর বৈঠকে বেকারত্ব, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) নিয়ে বিতর্ক এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কথিত বিদেশি হস্তক্ষেপের আশঙ্কা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

SIR-এর পক্ষে সওয়াল

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR নিয়ে চলমান বিতর্ক প্রসঙ্গে হোসাবালে বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলির নিজেদের মত প্রকাশ ও প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে। তবে কোনও বিষয়ে প্রতিবাদ করার আগে তার সত্যতা যাচাই করা উচিত।

তিনি ভোটার তালিকায় মৃত ব্যক্তিদের নাম এবং একই ব্যক্তির নাম একাধিক জায়গায় থাকার বিষয়টি তুলে ধরেন। তাঁর মতে, এই ধরনের ভুল সংশোধনের জন্য সময়ে সময়ে ভোটার তালিকা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

ভোটার তালিকায় ভারতীয় নাগরিক নন এমন ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টিও উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন হোসাবালে। তাঁর বক্তব্য, এর সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িত।

সংরক্ষণ ব্যবস্থা চালু রাখার পক্ষে RSS

সংরক্ষণ নিয়ে চলমান বিতর্কে হোসাবালে সংরক্ষণ ব্যবস্থা চালু রাখার পক্ষে মত প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, সামাজিক বৈষম্য ও বৈষম্যমূলক আচরণের কারণে পিছিয়ে পড়া মানুষদের সংরক্ষণের সুবিধা ততদিন দেওয়া উচিত, যতদিন না সমাজে সেই বৈষম্য দূর হয়।

তিনি বলেন, সামাজিক ও শিক্ষাগতভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষদের সংরক্ষণের সুবিধা অব্যাহত থাকা উচিত। এই ব্যবস্থায় কোনও পরিবর্তন আনার আগে যাঁরা সংরক্ষণের সুবিধা পান, তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করা প্রয়োজন।

আন্তর্জাতিক সংগঠন হওয়ার পরিকল্পনা নেই RSS-এর

বিদেশে RSS-এর উপস্থিতি প্রসঙ্গে হোসাবালে স্পষ্ট করেন, সংগঠনটির আন্তর্জাতিক সংগঠন হয়ে ওঠার কোনও পরিকল্পনা নেই। তাঁর বক্তব্য, RSS-এর কার্যক্রম ভারতের সীমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

তবে বিশ্বের ৮০ থেকে ১০০টি দেশে RSS-এর স্বেচ্ছাসেবক রয়েছেন বলে তিনি জানান। সংশ্লিষ্ট দেশগুলির আইন মেনে সেখানে হিন্দু সমাজকে সংগঠিত করার চেষ্টা করেন তাঁরা।