নয়াদিল্লি, ৪ নভেম্বর: অগ্নিপথ নিয়োগ প্রকল্পে বড় পরিবর্তন এনেছে কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রাথমিক চার বছরের চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নিয়মিত সশস্ত্র বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত না হওয়া ৭৫ শতাংশ অগ্নিবীরকে আরও দু’বছর কাজের সুযোগ দেওয়া হবে। এই অতিরিক্ত সময় শেষ হওয়ার পর বাহিনীতে থাকতে ইচ্ছুক অগ্নিবীররা নির্ধারিত যোগ্যতা ও বাছাইয়ের শর্ত পূরণ করলে স্থায়ী নিয়োগের আরেকটি সুযোগ পাবেন।
২০২২ সালের ১৪ জুন অগ্নিপথ প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছিল। এই প্রকল্পের আওতায় সেনা, নৌসেনা ও বায়ুসেনায় চার বছরের জন্য অগ্নিবীর নিয়োগ করা হয়। আগের নিয়ম অনুযায়ী, চার বছরের চাকরির মেয়াদ শেষে প্রতিটি ব্যাচের সর্বাধিক ২৫ শতাংশ অগ্নিবীরকে যোগ্যতা, কর্মদক্ষতা ও বাহিনীর প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত বাহিনীতে রাখা যেত। বাকি ৭৫ শতাংশকে চাকরির মেয়াদ শেষ হলে বাহিনী ছেড়ে চলে যেতে হত।
নতুন ব্যবস্থায় প্রথম পর্যায়ে নিয়মিত বাহিনীতে সুযোগ না পাওয়া অগ্নিবীরদের আরও দু’বছর কাজের সুযোগ দেওয়া হবে। এই অতিরিক্ত মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যাঁরা বাহিনীতে থাকতে চাইবেন, তাঁদের নির্ধারিত যোগ্যতা ও বাছাই প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে স্থায়ী নিয়োগের জন্য আবার বিবেচনা করা হবে।
এই পরিবর্তনের ফলে অগ্নিবীররা সামরিক ক্ষেত্রে আরও অভিজ্ঞতা অর্জন এবং নিজেদের দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে, সশস্ত্র বাহিনীও আগে থেকে প্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ কর্মীদের পরিষেবা আরও বেশি সময় ধরে কাজে লাগাতে পারবে।
নতুন ব্যবস্থায় অতিরিক্ত দু’বছরের চাকরির সময় বর্ধিত বেতন দেওয়ার কথাও রয়েছে। এই মেয়াদ শেষ করে যাঁরা বাহিনী ছেড়ে চলে যেতে চাইবেন, তাঁদের জন্য বাড়তি Seva Nidhi প্যাকেজের ব্যবস্থা থাকবে।
নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও পরিবর্তন আনার ঘোষণা করা হয়েছে। এখন থেকে শারীরিক পরীক্ষার আগে লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হবে। পাশাপাশি, চাকরির সময় অর্জিত সামরিক প্রশিক্ষণ ও দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে অগ্নিবীরদের Skill Certificate দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে অসামরিক ক্ষেত্রে চাকরি খোঁজার সময় এই শংসাপত্র তাঁদের প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতার প্রমাণ হিসেবে কাজে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, অগ্নিপথ প্রকল্পের আওতায় নিয়োগ পাওয়া প্রথম ব্যাচের চার বছরের চাকরির মেয়াদ ২০২৬ সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে শেষ হতে চলেছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন পরিবর্তন অগ্নিবীরদের ভবিষ্যৎ চাকরির সুযোগ এবং সশস্ত্র বাহিনীতে তাঁদের পরিষেবা অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।