গুয়াহাটি, ৫ নভেম্বর: উন্নত চিকিৎসা এবং বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে মুম্বই রওনা হয়েছেন প্রয়াত সংগীতশিল্পী জুবিন গার্গের স্ত্রী গরিমা শইকীয়া গার্গ। গুয়াহাটির নেমকেয়ার হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকেরা মানসিক চাপ এবং ঘুমের সমস্যার কথা বিবেচনা করে তাঁকে মুম্বইয়ের বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
গত ৩ নভেম্বর গরিমার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে সাংবাদিকদের জানান চিকিৎসক ডা. হিতেশ বরুয়া। তিনি জানিয়েছিলেন, গরিমার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। তাঁর রক্তচাপ এবং রক্তে শর্করার মাত্রাও স্বাভাবিক রয়েছে। তবে মানসিক চাপ, আবেগজনিত সমস্যা এবং রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়ার বিষয়টি চিকিৎসকদের উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছিল।
ডা. বরুয়ার বক্তব্য অনুযায়ী, গরিমা রাতে ঠিকমতো ঘুমোতে পারছিলেন না। ঘুমের মধ্যে বারবার জেগে ওঠার সমস্যাও দেখা দিয়েছিল। পাশাপাশি নিয়মিত খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রেও অসুবিধা হচ্ছিল। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর সুস্থতার জন্য শারীরিক চিকিৎসার পাশাপাশি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ, মানসিক বিশ্রাম এবং উপযুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, মুম্বইয়ের একটি বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্রে তাঁর চিকিৎসা ও পরামর্শদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়া প্রায় ১৫ থেকে ২০ দিন চলতে পারে বলে জানিয়েছিলেন ডা. বরুয়া। তবে মুম্বইয়ের কোন চিকিৎসাকেন্দ্রে তাঁকে রাখা হবে, তা পরিবার এবং চিকিৎসকদের আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করার কথা ছিল।
গত ৩১ অক্টোবর গুয়াহাটির অসম জাতীয় বিদ্যালয়ে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন গরিমা। এরপর তাঁকে নেমকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে ভর্তির পর থেকেই চিকিৎসকদের একটি দল তাঁর শারীরিক অবস্থার উপর নজর রাখছিল।
ডা. বরুয়া অসমের মানুষের কাছে গরিমার পরিস্থিতির প্রতি সংবেদনশীল থাকার আবেদন জানিয়েছিলেন। তাঁকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে সম্মান জানানোর অনুরোধও করেছিলেন তিনি। এই কঠিন সময়ে গরিমার উপর অতিরিক্ত মানসিক চাপ সৃষ্টি না করার জন্যও সকলের কাছে আবেদন জানান চিকিৎসক।
চিকিৎসকের মতে, গরিমার সুস্থতার জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রাম, নিয়মিত ঘুম, পুষ্টিকর খাবার এবং মানসিক সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। জুবিন গার্গের মৃত্যুর পর এই কঠিন সময়ে তাঁর শারীরিক সুস্থতা এবং মানসিক শান্তিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।