৫ নভেম্বর: বিলাস ইন-এ গুলিচালনার ঘটনায় আহত সত্যেন্দ্র পাঠক সেদিনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। বাড়ি ফিরে তিনি জানান, গাড়ি পার্কিং নিয়ে শুরু হওয়া বচসার পরই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। পালানোর চেষ্টা করে একটি কম্পিউটার মেরামতির দোকানে আশ্রয় নিয়েও শেষ পর্যন্ত তাঁর পিঠে গুলি লাগে।
সত্যেন্দ্রের বক্তব্য অনুযায়ী, হোটেলের ভিতরে যাওয়ার রাস্তা ছিল বেশ সংকীর্ণ। সেখানে দু’টি হোটেল থাকায় গ্রাহকদের যাতায়াতও চলত। তাই তাঁরা গাড়ি হোটেলের ভিতরে না নিয়ে কিছুটা দূরে রেখে হেঁটে হোটেলের দিকে যান।
তিনি জানান, সেই সময় দেবর্ষি সেখানে আসেন। পার্কিংয়ে জায়গা না পেয়ে তিনি গাড়িটি কিছুটা এগিয়ে দেওয়ালের পাশে রাখেন। কিছুক্ষণ পর ঘনকান্ত গগৈ সেখানে পৌঁছন। গাড়ি পার্কিংকে কেন্দ্র করে দু’জনের মধ্যে বচসা শুরু হয়। সত্যেন্দ্রের দাবি, তাঁদের মধ্যে উত্তপ্ত কথাবার্তা চললেও ঠিক কী বলা হচ্ছিল, তা তিনি শুনতে পাননি।
সত্যেন্দ্র জানান, এরপর তাঁরা যখন হোটেলের মূল প্রবেশদ্বারের কাছে ছিলেন, তখন কয়েকজনকে দ্রুত হোটেলের ভিতরে ঢুকতে দেখেন। রিসেপশনের কাছে কাচের মধ্য দিয়ে তিনি ঘনকান্ত গগৈকে পিস্তল হাতে গুলি চালাতে দেখেন বলে দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, সামনে থাকা হেলেনা এবং আরও এক ব্যক্তিকে গুলি করা হয়।
গুলি চলতে শুরু করলে নারায়ণ দাস তাঁকে পালিয়ে যেতে বলেন। দু’জনে হোটেলের পাশের একটি কম্পিউটার মেরামতির দোকানের দিকে দৌড়ে যান। সত্যেন্দ্র দোকানের ভিতরে ঢুকে পড়েন, অন্যদিকে নারায়ণ দাস অন্য দিকে দৌড়ে যান।
সত্যেন্দ্রের অভিযোগ, ঘনকান্ত গগৈ প্রথমে নারায়ণ দাসের উপর হামলা করেন। এরপর দোকানের দিকে ফিরে এসে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। গুলিটি তাঁর পিঠে লাগে এবং তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
দোকানের ভিতরে থাকা লোকজন তাঁকে উঠে বাইরে যাওয়ার জন্য বলেন। কিন্তু গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি এতটাই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন যে তখন কী বলেছিলেন বা কী করেছিলেন, তা মনে নেই। পরে কোনওরকমে উঠে বাইরে বেরিয়ে আসেন।
ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল কি না, সেই প্রশ্নে সত্যেন্দ্র নিজের সন্দেহের কথা জানান। তাঁর ধারণা, ঘটনাটি আগে থেকেই পরিকল্পনা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে ঘনকান্ত গগৈয়ের সঙ্গে আগের পরিচয়ের ভিত্তিতে এমন ঘটনা ঘটতে পারে, তা তাঁরা কখনও ভাবেননি বলেও জানান তিনি।