নয়াদিল্লি, ৭ নভেম্বর: ২০০৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোটের জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ এসেছিল সোনিয়া গান্ধীর সামনে। কিন্তু সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি তিনি। তাঁর পরিবর্তে দেশের প্রধানমন্ত্রী হন ড. মনমোহন সিং। প্রায় ২২ বছর পর সেই সিদ্ধান্তের পিছনের কারণ জানালেন সোনিয়া গান্ধী।
ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ান-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সোনিয়া গান্ধী জানান, তিনি আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে কখনও প্রধানমন্ত্রী হবেন না। তাঁর মতে, প্রধানমন্ত্রীর পদ তাঁর স্বভাব এবং ব্যক্তিগত পছন্দের সঙ্গে মানানসই ছিল না।
তিনি আরও জানান, ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে রাজনীতিতে আসেননি তিনি। দল এবং পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকেই তাঁর রাজনীতিতে প্রবেশ।
২০০৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এসেছিল। ইউপিএ জোটের সরকার গঠনের পথও খুলে গিয়েছিল। সেই সময় সোনিয়া গান্ধীকেই প্রধানমন্ত্রী পদের স্বাভাবিক দাবিদার বলে মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু তিনি নিজে সেই পদ গ্রহণ না করে ড. মনমোহন সিংয়ের নাম প্রস্তাব করেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৮ সালে এক সাক্ষাৎকারে প্রিয়ঙ্কা গান্ধীকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তিনি এবং রাহুল গান্ধী তাঁদের মাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন কি না। উত্তরে প্রিয়ঙ্কা জানিয়েছিলেন, তাঁরা দু’জনেই চাননি তাঁদের মা প্রধানমন্ত্রী হন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচনের অনেক আগেই সোনিয়া গান্ধী এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন।
অন্যদিকে, ২০১৪ সালে প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী কে. নটবর সিং দাবি করেছিলেন, রাহুল গান্ধী চাননি তাঁর মা প্রধানমন্ত্রী হন। তাঁর আশঙ্কা ছিল, প্রধানমন্ত্রী হলে সোনিয়া গান্ধীর জীবনও বিপদের মুখে পড়তে পারে, যেমন ঘটেছিল ইন্দিরা গান্ধী ও রাজীব গান্ধীর ক্ষেত্রে। তবে কংগ্রেস নেতা অজয় মাকন সেই সময় নটবর সিংয়ের দাবি খারিজ করেছিলেন।
সাক্ষাৎকারে সোনিয়া গান্ধী ইন্দিরা গান্ধীর হত্যাকাণ্ডের পর পরিবারের মধ্যে তৈরি হওয়া আতঙ্ক এবং রাজীব গান্ধীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথাও স্মরণ করেন। নিরাপত্তার কারণে রাহুল ও প্রিয়ঙ্কার স্বাভাবিক জীবন অনেকটাই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছিল বলে জানান তিনি। ১৯৯১ সালে নির্বাচনী প্রচারের সময় রাজীব গান্ধী নিহত হন।
উল্লেখ্য, সোনিয়া গান্ধীর স্মৃতিকথা Belonging: A Journey of Love প্রকাশিত হওয়ার কথা ১০ নভেম্বর, ২০২৬। বইটিতে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, রাজীব গান্ধীর সঙ্গে সম্পর্ক এবং ভারতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ সময়ের অভিজ্ঞতা উঠে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।