আমরেলি: গুজরাতে এসডি পে ও আপনা পে নামে ডিজিটাল ওয়ালেট অ্যাপের মাধ্যমে 1,200 কোটি টাকার বেশি প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। আমরেলি সাইবার ক্রাইম পুলিশ 2 সেপ্টেম্বর 2026-এ অ্যাপগুলির প্রোমোটার, ডিরেক্টর এবং অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করে। এখনও পর্যন্ত 18টি এফআইআর হয়েছে এবং এক ডজন অভিযুক্ত গ্রেফতার হয়েছেন।

তদন্তকারীদের দাবি, 2024 সালে ধবল পটেলের চালু করা এসডি পে অ্যাপটি বিল মেটানো ও মোবাইল রিচার্জ সহজ করার কথা বলেছিল। পরে বিনিয়োগের অঙ্ক অনুযায়ী প্রতিদিন 0.15 থেকে 0.30 শতাংশ মুনাফার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, উৎপাদন, বিক্রি বা পরিষেবা থেকে কোনও আয় না থাকায় নতুন বিনিয়োগকারীদের টাকা দিয়েই আগের বিনিয়োগকারীদের মুনাফা মেটানো হত বলে অভিযোগ।

প্রথম দিকে মোটা ক্যাশব্যাক দিয়ে আস্থা তৈরি করা হয়। পরে 15 লক্ষ মানুষ রেফারেলের মাধ্যমে অ্যাপটি ডাউনলোড করেন। পুলিশ সূত্রে খবর, ‘রেফারেল ক্যাশব্যাক’-এ প্রথম স্তরে 30 শতাংশ পর্যন্ত টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল। 10 থেকে 15 নম্বর স্তর পর্যন্ত থাকা সদস্যদের জন্য ছিল 3 শতাংশ।

তদন্তে উঠে এসেছে, সুরেন্দ্রনগরের এক ব্যক্তি বাড়ি তৈরির আশায় নিজের নামে 20 লক্ষ টাকা, স্ত্রীর নামে আরও 20 লক্ষ টাকা ব্যক্তিগত ঋণ নেন। এ ছাড়া 20 লক্ষ টাকার সোনার ঋণ নিয়ে সব টাকা এসডি পে-তে ঢালেন। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি এখন মূল টাকাও ফেরত পাচ্ছেন না।

একই ভাবে ভদোদরার 48 বছরের এক শিক্ষিকা 2025 সালে তাঁর 1 বিএইচকে ফ্ল্যাট বিক্রির 9.5 লক্ষ টাকা অ্যাপে লগ্নি করেন। 2026 সালের মাঝামাঝি তাঁর ওয়ালেটে 50 লক্ষ টাকা দেখালেও অ্যাপ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি তা তুলতে পারেননি। তাঁর করা পোস্ট দেখে তাঁর পরিচিত 31 জন অ্যাপে যোগ দেন বলে তিনি জানিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে 11 জন পরিবারের সদস্য মোট 30 লক্ষ টাকা এবং 20 জন সহকর্মী 12 লক্ষ টাকা লগ্নি করেছিলেন।

তদন্তকারীদের বক্তব্য, 2025 সালে উত্তর গুজরাতে প্রচার ছড়ানোর পর ধবল পটেল গান্ধীনগরে একটি দোকান খোলেন। সেখানে মার্কেটার নরেন্দ্রসিংহ ঝালার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয় এবং প্রচার আরও বাড়ে। সুরাতের এক ব্যক্তি 1,000 টাকা লগ্নি করে 1 কোটি টাকা আয় করেন এবং তাঁর মাধ্যমে 1.6 লক্ষ বিনিয়োগকারীর একটি শৃঙ্খল তৈরি হয় বলেও তদন্তে জানা গিয়েছে।

মার্চ 2026 থেকে দৈনিক মুনাফা দেওয়া বন্ধ হয়ে গেলে বিনিয়োগকারীদের টাকা ফেরানোর বদলে শেয়ার দেওয়া শুরু হয় বলে অভিযোগ। অভিযুক্তেরা আইপিও আনার কথা বলেছিলেন। আমরেলির পুলিশ সুপার সঞ্জয় খারাট জানিয়েছেন, রাজকোট থেকে ধরা পড়া সন্তোষ পাঠকের অ্যাকাউন্টে 30 অক্টোবর পর্যন্ত 16 কোটি টাকা জমা হয়েছিল। তাঁকে 20 টাকা নামমাত্র মূল্যে 2 লক্ষ শেয়ার বরাদ্দের রসিদও দেওয়া হয়েছিল; শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পরে তার দাম 100 টাকা হবে বলে দাবি করা হয়েছিল।

6 জুন 2026-এ সাভরকুন্ডলার এক 32 বছরের কম্পিউটার অপারেটর 2 লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। পরে টাকা ফেরত পেয়ে তিনি অভিযোগ প্রত্যাহার করেন। কিন্তু নগদে বিনিয়োগ নেওয়া এবং পরে ব্যাঙ্কে টাকা ফেরত দেওয়ার ধরন দেখে তদন্ত এগোয়। পুলিশ জানিয়েছে, ‘শিব ধরতি কমিউনিকেশন প্রাইভেট লিমিটেড’-এর ইয়েস ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকার উৎসের সন্ধান মেলে। এখন তদন্তকারীদের সামনে বড় প্রশ্ন, রেফারেল শৃঙ্খলে যুক্ত কারা প্রতারিত এবং কারা এই চক্র চালাতে সাহায্য করেছেন।