বৃন্দাবনের কথক ডঃ ইন্দ্রদেব মহারাজের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন এক মহিলা। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২৬ সালের ২৮ অক্টোবর মহারাষ্ট্রের মীরা-ভাইন্দরের কাশিমিরা থানায় ইন্দ্রদেব মহারাজের বিরুদ্ধে জিরো এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তের অবিলম্বে গ্রেফতার এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভূমাতা ব্রিগেডের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তৃপ্তি দেশাই।

অভিযোগকারী মহিলার বক্তব্য অনুযায়ী, পারিবারিক সমস্যার সমাধানের আশায় তিনি ইন্দ্রদেব মহারাজের কাছে গিয়েছিলেন এবং তাঁকে গুরু হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। মহিলার অভিযোগ, এরপর মহারাজ তাঁর ফোন নম্বর সংগ্রহ করে ব্যক্তিগত বার্তা পাঠাতে শুরু করেন।

মহিলার দাবি, মহারাজ তাঁকে বলতেন যে তিনি তাঁকে নিজের কাছে রাখতে চান এবং তাঁর সন্তানদের দেখাশোনা করতে চান। অভিযোগ, বারবার ভিডিও কল করার জন্য চাপ দেওয়া হতো এবং ভিডিও কলের সময় পোশাক খুলে ফেলতেও বলা হতো।

মহিলার অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে তাঁকে বৃন্দাবনের রাধা কিশোরী সেবাধাম আশ্রমে ডেকে পাঠানো হয়। সেখানে মহারাজ তাঁকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে জোর করে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন বলে অভিযোগ।

সাক্ষাৎকারে মহিলা ঘটনার তারিখ হিসেবে ২০২৫ সালের ৪ নভেম্বরের কথা জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, ন্যায়বিচারের জন্য তিনি প্রায় আট মাস ধরে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানিয়ে আসছিলেন। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী, মহিলা কমিশন, আখড়া এবং মহারাষ্ট্রের পুলিশ কমিশনারের দফতরেও অভিযোগ পাঠিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

“আমার লিঙ্গই শিবলিঙ্গ, এর পুজো করো”—মহিলার অভিযোগ

সাক্ষাৎকারে ইন্দ্রদেব মহারাজের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ওই মহিলা। তাঁর দাবি, মহারাজ নিজেকে ভগবান বলে পরিচয় দিতেন এবং মহিলাদের তাঁর পুজো করতে বলতেন।

মহিলার অভিযোগ, মহারাজ তাঁকে বলেছিলেন, “আমার লিঙ্গই শিবলিঙ্গ, এর পুজো করো।” তিনি আরও দাবি করেন, মহারাজ মহিলাদের নিজের নির্দেশ মেনে চলার জন্য চাপ দিতেন এবং আশ্রমে ডেকে তাঁদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করতেন।

এই অভিযোগগুলি মহিলার বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশ করা হচ্ছে। এগুলির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

তৃপ্তি দেশাইয়ের হস্তক্ষেপ, গ্রেফতারের দাবি

ভূমাতা ব্রিগেডের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তৃপ্তি দেশাই জানিয়েছেন, ন্যায়বিচারের জন্য দীর্ঘদিন চেষ্টা করার পর ওই মহিলা তাঁদের সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর সংগঠনের পক্ষ থেকে কাশিমিরা থানায় যোগাযোগ করে অভিযোগ নথিভুক্ত করার দাবি জানানো হয়।

তৃপ্তি দেশাইয়ের দাবি, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ধর্ষণের অভিযোগে জিরো এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, মামলাটি বৃন্দাবনে স্থানান্তরিত হলেও এখনও অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়নি।

তিনি ইন্দ্রদেব মহারাজকে অবিলম্বে গ্রেফতার করার পাশাপাশি মহারাষ্ট্রের জলগাঁও জেলার সাভখেড়া এবং বৃন্দাবনে অবস্থিত তাঁর আশ্রম দুটি সিল করার দাবি জানিয়েছেন।

তৃপ্তি দেশাই আরও দাবি করেছেন, এই মামলায় কথিত অশালীন হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা এবং অভিযোগকারী মহিলার সঙ্গে হওয়া ১৫ থেকে ১৬টি ফোন কলের রেকর্ডিংয়ের মতো প্রমাণ রয়েছে।

২,০০০ থেকে ৩,০০০ মহিলার নির্যাতনের অভিযোগ

অভিযোগকারী মহিলার দাবি, আরও বহু মহিলা ও তরুণী একই ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকতে পারেন। সাক্ষাৎকারে তিনি সম্ভাব্য নির্যাতিতার সংখ্যা ২,০০০ থেকে ৩,০০০ বলে উল্লেখ করেছেন। তবে এই সংখ্যার স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা যায়নি। অন্য কোনও অভিযোগকারিণীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও সরবরাহ করা হয়নি।

ধর্মীয় বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে মহিলাদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তৃপ্তি দেশাই।

এই বিষয়ে ইন্দ্রদেব মহারাজ বা তাঁর প্রতিনিধিদের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পুলিশি তদন্তের পরই অভিযোগগুলির সত্যতা স্পষ্ট হবে।