নয়াদিল্লি, ৬ নভেম্বর: পাকিস্তানের দখলে থাকা কাশ্মীরের পাশাপাশি বাংলাদেশের নোয়াখালি, চট্টগ্রাম বন্দর এবং সিলেট অঞ্চল ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে। শুক্রবার তিনি অভিযোগ করেন, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু এই অঞ্চলগুলি জোর করে হস্তান্তর করেছিলেন।
দুবে দাবি করেন, এই তিনটি অঞ্চল ঐতিহাসিকভাবে তৎকালীন ত্রিপুরা রাজ্যের অংশ ছিল। তাঁর বক্তব্য, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের পাশাপাশি নোয়াখালি, চট্টগ্রাম এবং সিলেটও ফিরিয়ে আনার সময় এসেছে।
ত্রিপুরার তৎকালীন রাজা বীর বিক্রম সিং এবং নেহরুর মধ্যে ভূখণ্ড নিয়ে আলোচনার প্রসঙ্গও তোলেন বিজেপি সাংসদ। রাজার কথিত বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি প্রশ্ন করেন, নোয়াখালি পাকিস্তানের হাতে তুলে দেওয়া এবং সিলেট ও চট্টগ্রামে গণভোট করার অধিকার কার ছিল?
দুবে আরও বলেন, সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল সেনা পাঠিয়েছিলেন এবং মহারানি কাঞ্চনপ্রভা যোগদানের চুক্তিতে স্বাক্ষর করার পর ১৯৪৮ সালের অক্টোবরে ত্রিপুরা ভারতের সঙ্গে যুক্ত হয়।
নেহরুর সমালোচনা করতে গিয়ে ১৯৪৬ সালের নোয়াখালি হিংসার প্রসঙ্গও তোলেন দুবে। তাঁর দাবি, ওই ঘটনায় প্রায় ১০ হাজার হিন্দু নিহত হয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ, নোয়াখালির হিংসা মোকাবিলার পরিবর্তে নেহরু মন্ত্রিসভায় মুসলিম লিগকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েই বেশি আগ্রহী ছিলেন।
চট্টগ্রাম বন্দর হাতছাড়া হওয়ার কারণে উত্তর-পূর্ব ভারতের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, বন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের খনিজ ও গ্যাস সম্পদের পূর্ণ ব্যবহার সম্ভব হয়নি।
সিলেট গণভোট পরিচালনাকারী বাহারুল ইসলামের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন দুবে। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস পরে তাঁকে রাজ্যসভার সদস্য করে এবং তিনি হাই কোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির দায়িত্বও পালন করেন।
এদিকে, TIPRA Motha-র প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যোত বিক্রম মানিক্য দেববর্মাও দেশভাগের সময় ত্রিপুরা রাজ্যের ভূখণ্ড বিভাজনের প্রসঙ্গ তুলেছেন। তাঁর দাবি, তাঁর ঠাকুমাকে অন্ধকারে রেখে রাজ্যের বড় অংশ পূর্ব পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল। সমুদ্রপথে প্রবেশাধিকার থাকলে ত্রিপুরা ও উত্তর-পূর্ব ভারতের কৌশলগত অবস্থান আরও শক্তিশালী হতো বলেও মন্তব্য করেন তিনি।