হায়দরাবাদ: তেলঙ্গানার EAGLE Force প্রায় ৬০ দিনের তদন্তের পর গাঁজা পাচারের একটি কথিত চক্রের হদিস পেয়েছে। এই ঘটনায় চক্রের কথিত মূল পান্ডা ভাস্কর হাজরিকা-সহ অসমের পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ধৃত অন্য চারজন হলেন বাবু বোরা, নির্মল হাজরিকা, প্রণজল দত্ত এবং আকন রাজবংশী। পুলিশের দাবি, পাঁচজনই অসমের বাসিন্দা। বুধবার তাঁদের গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২৭ অগস্ট তদন্ত শুরু হয়। ওই দিন EAGLE Force এবং চৌটুপ্পল পুলিশ একটি গাড়ি থেকে ২০.৩৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করে। গ্রেফতার করা হয় ওড়িশার বাসিন্দা ত্রিলোচন সামন্তরায় ও সাগরবলকে। জেরায় তাঁরা বিকাশ বারিককে সরবরাহকারী এবং ভাস্কর হাজরিকাকে চক্রের কথিত মূল পান্ডা হিসেবে চিহ্নিত করেন বলে পুলিশের দাবি। ২৯ অগস্ট বিকাশ বারিককে গ্রেফতার করা হয়।

ভাস্কর হাজরিকা ২০১৪ সালে হায়দরাবাদে এসে নিরাপত্তারক্ষীর কাজ শুরু করেন। পরে গ্রামে ফিরে গেলেও ২০১৭ সালের শেষ দিকে ফের হায়দরাবাদে আসেন। Swiggy ও Zomato-তে কাজ করার পাশাপাশি পরে আবার নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করেন। পুলিশের দাবি, ২০২০ সাল থেকে তিনি গাঁজা বিক্রি শুরু করেন।

২০২৪ সালে মাধাপুর পুলিশ তাঁকে দু’বার এবং গাচিবৌলি পুলিশ একবার গ্রেফতার করেছিল। তবে প্রতিবারই তিনি জামিন পান। ২০২৪ সালের মার্চে মুক্তি পাওয়ার পর নিজের গ্রামের কয়েকজনকে এই চক্রে যুক্ত করেন বলে অভিযোগ।

পুলিশের মতে, ২০২৫ সালের জুনে তিনি ফের হায়দরাবাদে মাদক সরবরাহের কাজ শুরু করেন। WhatsApp-এর মাধ্যমে ওড়িশার বিকাশ বারিক এবং আরও দু’জন সরবরাহকারীর কাছ থেকে গাঁজা সংগ্রহ করা হত।

ব্যাঙ্কের লেনদেন খতিয়ে দেখে পুলিশ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে ৮৮টি লেনদেনের মাধ্যমে আকাশ কুমার বালিয়ারসিংহের কাছ থেকে ৪৮ লক্ষ টাকার গাঁজা কেনা হয়েছিল বলে অভিযোগ। প্রতি কেজি ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকায় কিনে প্রায় ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হত।

কর্মকর্তাদের অনুমান, ১০ মাসে প্রায় ৪০০ কেজি গাঁজা সংগ্রহ করে ১.৮ কোটি টাকার মাদক বিক্রি করা হয়েছে। এই চক্রে কুরিয়ার, প্যাকিং ও ডেলিভারির কাজে যুক্ত লোকজন ছিল। Cyberabad অঞ্চলের প্রায় ১০০ জন নিয়মিত ক্রেতার কাছে গাঁজা পৌঁছে দেওয়া হত বলে পুলিশের দাবি।