বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় খসড়া ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য আরও একবার সুযোগ দিয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI)। সংশ্লিষ্ট ভোটাররা ফের Enumeration Form জমা দিয়ে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করতে পারবেন।
মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, তেলঙ্গানা ও নাগাল্যান্ডের পাশাপাশি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল দিল্লিতে এই নির্দেশ কার্যকর হবে।
যেসব ভোটারকে Enumeration Form দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, মৃত অথবা দ্বৈত ভোটার হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার কারণে তাঁদের নাম খসড়া তালিকায় ওঠেনি, তাঁরাই এই সুযোগ পাবেন।
নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট ভোটারদের বুথভিত্তিক তালিকা নতুন করে প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়েছে। ভোটকেন্দ্র, পঞ্চায়েত ভবন এবং শহরাঞ্চলের স্থানীয় প্রশাসনিক দফতরের নোটিস বোর্ডে এই তালিকা টাঙানো হবে। সংশ্লিষ্ট মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের ওয়েবসাইটেও পাঠযোগ্য PDF আকারে তালিকা প্রকাশ করা হবে। নাম বাদ পড়ার সম্ভাব্য কারণও সেখানে উল্লেখ থাকবে।
জেলা নির্বাচনী আধিকারিক এবং Electoral Registration Officer-দের ECINET ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে আংশিকভাবে পূরণ করা Enumeration Form নতুন করে তৈরি করতে বলা হয়েছে। বুথ লেভেল অফিসাররা (BLO) সংশ্লিষ্ট ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফর্ম পৌঁছে দেবেন। প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়িতে গিয়ে অথবা WhatsApp, ই-মেল ও SMS-এর মাধ্যমেও ফর্ম পাঠানো যাবে।
ভোটাররা নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট বা ECINET অ্যাপ থেকেও পুরনো EPIC নম্বর ব্যবহার করে ফর্ম ডাউনলোড ও পূরণ করতে পারবেন।
যাঁরা বাসস্থান পরিবর্তন করেননি
যাঁরা আগের ঠিকানাতেই রয়েছেন, তাঁদের পূরণ করা ও স্বাক্ষরিত Enumeration Form-এর সঙ্গে আগে ফর্ম জমা দিতে না পারার কারণ জানিয়ে একটি বিবৃতি দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট Electoral Registration Officer (ERO), Assistant Electoral Registration Officer (AERO) অথবা BLO-র কাছে নথি জমা দেওয়া যাবে। ECINET-এর মাধ্যমে ই-সাইন ব্যবহার করে অনলাইনেও জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে।
একই রাজ্যের মধ্যে যাঁরা বাসস্থান পরিবর্তন করেছেন
একই রাজ্যের মধ্যে অন্যত্র চলে যাওয়া ভোটারদের Form 8 জমা দিতে হবে না। তাঁদের নতুন ঠিকানা ও বিধানসভা কেন্দ্রের বিবরণ উল্লেখ করে Enumeration Form-এর সঙ্গে ঠিকানার প্রমাণ জমা দিতে হবে।
যেসব গৃহহীন ভোটারের কাছে ঠিকানার কোনও নথি নেই, তাঁদের ক্ষেত্রে BLO-র সরেজমিন যাচাইয়ের প্রতিবেদনকে বসবাসের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা হবে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, কোনও যোগ্য ভোটার যাতে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি দ্বৈত নাম নথিভুক্তি রুখতে নজরদারি ব্যবস্থাও জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।