রাজ্যের আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে আগামী ৯ নভেম্বর ফের ১,০০০ কোটি টাকা ঋণ নিতে চলেছে অসম সরকার। সরকারি সিকিউরিটিজ নিলামের মাধ্যমে এই ঋণ নেওয়ার জন্য ইতিমধ্যেই রাজ্যের অর্থ দপ্তর রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কাছে প্রস্তাব জমা দিয়েছে।
প্রাগ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর অসম সরকার ১,০০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল। সেই ঋণের এক পাক্ষিক পূর্ণ হওয়ার আগেই ফের একই পরিমাণ ঋণ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বর মাসে রাজ্য সরকার ৩,১০০ কোটি টাকা এবং অক্টোবর মাসে ২,০০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল। অর্থ দপ্তরের এক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে আরও জানানো হয়েছে, নভেম্বর মাসে ফের ১,০০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজ্যের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের ব্যয়ের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অরুণোদয় প্রকল্পে প্রতি মাসে ৪৫০ কোটি টাকারও বেশি খরচ হয় বলে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে, নিজুত বাবু এবং নিজুত মাইনা প্রকল্পে প্রতি মাসে প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয় হয় বলে জানানো হয়েছে।
বারবার ঋণ নেওয়ার ফলে রাজ্যের ঋণের বোঝা বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিরোধী দল এবং বিভিন্ন সংগঠন সরকারের ঋণ নেওয়ার নীতির সমালোচনা করেছে। অন্যদিকে, পরিকাঠামো উন্নয়ন, জনকল্যাণমূলক প্রকল্প এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য ঋণ নেওয়া প্রয়োজন বলে সরকারের যুক্তি।
প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত অসমের মোট ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪১,৯৬৪ কোটি টাকা। সর্বানন্দ সোনোয়াল সরকারের আমলে তা বেড়ে ৮৯,৭০৯ কোটি টাকা হয়। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে এই ঋণের পরিমাণ ছিল ১,৭৭,৯৮৩ কোটি টাকা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের দাবি, বর্তমানে রাজ্যের মোট ঋণ ২ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ বেড়ে প্রায় ৪২,৫০০ টাকা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।