শিবসাগর, ৭ নভেম্বর: ঐতিহাসিক যমুনা খালের জমি দখলমুক্ত করতে শনিবার সকাল থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করল শিবসাগর জেলা প্রশাসন। সদৌ তাই আহোম ছাত্র সন্থা বা আটাছুর লাগাতার আন্দোলন ও দাবির পর এই অভিযান শুরু হয়েছে।
আটাছুর দাবি, যমুনার মোট জমির পরিমাণ ১২০ বিঘা ১ কঠা ৯ লোচা। এর মধ্যে প্রায় ৪০ বিঘা জমি দখল হয়ে রয়েছে। খালের জমিতে তৈরি বাড়ি, শৌচাগার, দেওয়াল এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সরানোর লক্ষ্য নিয়েছে প্রশাসন।
অভিযান শুরুর আগেই কয়েকটি পরিবার নিজেদের বাড়ি ও শৌচাগারের দেওয়াল ভাঙতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। আটাছুর প্রতিনিধিদের বক্তব্য, কিছু মানুষ স্বেচ্ছায় নির্মাণ ভেঙে জমি দখলমুক্ত করার কাজে সহযোগিতা করছেন।
যমুনার প্রতিটি দখল উচ্ছেদ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে আটাছুর বসন্ত পন্থী গোষ্ঠী। ভবিষ্যতে যাতে ফের জমি দখল না হয়, সে জন্য খালের দু’পাড়ে গার্ডওয়াল তৈরিরও দাবি তুলেছে তারা। এ জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করতে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার কাছে আবেদন জানিয়েছে সংগঠনটি।
শুধু আংশিক উচ্ছেদে সন্তুষ্ট নয় আটাছু। যমুনার চৌহদ্দি পুরোপুরি খালি করে ঐতিহাসিক জলাশয়টির আগের পরিসর ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
যমুনার উচ্ছেদ অভিযান শেষ হওয়ার পরে আহোম যুগের অন্য ঐতিহাসিক সম্পদ সংরক্ষণেও কর্মসূচি নেওয়ার কথা জানিয়েছে আটাছু। তলাতল ঘরের খাল দখলমুক্ত করা এবং ১৭৪ বিঘা জমির পট্টা বাতিলের দাবি তোলার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
পাশাপাশি রংঘর, রংগনাথ শিবদৌল, জয়মতী স্মৃতিসৌধ এবং কারেংঘরের চৌহদ্দিতে তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ থাকা বাড়িগুলি সরানোর দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি। তবে এই দাবিগুলি পরবর্তী পর্যায়ের কর্মসূচি বলে স্পষ্ট করেছে আটাছু।
স্বর্গদেউ শিবসিংহের রাজত্বকালে শিবদৌল, দেবীদৌল, বিষ্ণুদৌল ও বরপুখুরীর পাশে যমুনা খনন করা হয়েছিল বলে ঐতিহাসিক সূত্রে উল্লেখ রয়েছে। প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানকে স্বাগত জানালেও, গার্ডওয়াল নির্মাণ ও সম্পূর্ণ দখলমুক্তকরণ না হলে আন্দোলন থামবে না বলে জানিয়েছে আটাছু।