ছত্তীশগড়, ৮ নভেম্বর: এক সময়ের মাওবাদী-অধ্যুষিত বস্তরে রবিবার নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে দীপাবলি উদযাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। জওয়ানদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পাশাপাশি তাঁদের ত্যাগ ও আত্মবলিদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি।
জওয়ানদের উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র মাওবাদীদের বিরুদ্ধে দেশের দীর্ঘ লড়াইয়ে সাফল্য আসার পরে এবারের দীপাবলি বিশেষ। তাঁর দাবি, দেশের প্রতিটি জেলা মাওবাদীমুক্ত হওয়ার পর এটাই প্রথম দীপাবলি। মাওবাদী হিংসার আতঙ্ক থেকে কোটি কোটি মানুষ মুক্তি পেয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
“সশস্ত্র নকশালবাদীরা নির্মূল হলেও দিমাগী নকশালরা বিভিন্ন সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে। আজও তারা মানুষকে সংবিধান ও গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে উসকানি দিচ্ছে,” বলেন মোদী।
প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, এ ধরনের আদর্শগত নকশালপন্থীরা কয়েকটি রাজনৈতিক দল ও নানা সংগঠনে ঢুকে পড়েছে। তাঁদের চিহ্নিত করে পরাস্ত করা এবং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দরকার বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
মোদীর দাবি, গত ৪৭ বছরে এই প্রথম, গত এক বছরে কর্তব্যরত অবস্থায় সিআরপিএফের কোনও জওয়ানের মৃত্যু হয়নি। তিনি সিআরপিএফ, কোবরা, বিএসএফ, আইটিবিপি, এসএসবি, আইআরবি, রাজ্য পুলিশ, বস্তর ফাইটার্স এবং বিশেষ বাহিনীর সদস্যদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। মহিলা কমান্ডোদের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে প্রতি বছর নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে দীপাবলি উদযাপন করে আসছেন মোদী। এ বার নিয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর ১৩তম দীপাবলি দিল্লির বাইরে পালিত হল। তাঁর বক্তব্য, নিরাপত্তাবাহিনীর সাহস ও ত্যাগের ফলে বস্তরে শান্তি ও উন্নয়নের নতুন পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের এপ্রিলে দেশে ১২৬টি জেলা মাওবাদী-প্রভাবিত ছিল। ২০২১ সালের জুলাইয়ে তা কমে ৭০টি, ২০২৪ সালের এপ্রিলে ৩৮টি এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ৮টিতে নেমে আসে। ২০২৬ সালের মার্চ-এপ্রিলে এই সংখ্যা শূন্যে নেমেছে বলে কেন্দ্র ঘোষণা করেছিল। তবে ৩৭টি জেলাকে এখনও ‘লেগ্যাসি অ্যান্ড থ্রাস্ট’ শ্রেণিতে রাখা হয়েছে।