গাজিয়াবাদ, ৮ নভেম্বর: উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের বসুন্ধরা পুলিশ ফাঁড়ির পিছনে বিস্ফোরণসদৃশ ঘটনায় ২০ বছরের এক খাবার সরবরাহকারী কর্মী আহত হয়েছেন। শুক্রবার রাত প্রায় ৯টায় ইন্দিরাপুরম থানা এলাকার ওই ঘটনায় ফাঁড়ির দু’টি জানালার কাচ ভেঙেছে এবং একটি দেওয়ালে ফাটল ধরেছে।

ঘটনার সময়ে ফাঁড়িতে এক উপ-পরিদর্শক এবং খাবার পৌঁছে দিতে আসা ওই ডেলিভারি কর্মী ছিলেন। ভাঙা কাচের টুকরোয় তাঁর মাথায় আঘাত লাগে। তাঁকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশকর্মীদের কেউ আহত হননি।

ঘটনার পরে ‘গাজি ২’ নামে একটি এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে তেহরিক-উল-মুজাহিদিন হিন্দুস্তান বা টিএমএইচের নামে ঘটনার দায় স্বীকারের দাবি করা হয়। পোস্টে গাজিয়াবাদ পুলিশকে নিশানা করে হামলার দাবি, সরকারের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর কথা এবং ভবিষ্যতে আরও হামলার হুমকির উল্লেখ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে ওই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে কোনও সংগঠনের যোগ রয়েছে কি না, কিংবা ঘটনার সঙ্গে পোস্টটির কোনও সম্পর্ক আছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত করেনি পুলিশ।

উত্তরপ্রদেশের সন্ত্রাসবাদবিরোধী শাখা, বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল এবং ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছেন। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা, দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল, স্পেশাল টাস্ক ফোর্স এবং গোয়েন্দা দফতরের আধিকারিকেরাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ফরেন্সিক নমুনা পরীক্ষার জন্য আগ্রায় পাঠানো হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রাথমিক পরীক্ষায় ঘটনাস্থল থেকে বিস্ফোরক, বারুদ বা রাসায়নিক অবশিষ্টের কোনও প্রমাণ মেলেনি বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, দীপাবলির কোনও আতশবাজি উড়ে এসে ফাঁড়ির এসি ইউনিটে পড়লেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে। যদিও পরিকল্পিত হামলার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।

গাজিয়াবাদের পুলিশ কমিশনার জে রবীন্দ্র গৌড় জানিয়েছেন, ঘটনায় এক ডেলিভারি কর্মী সামান্য আহত হয়েছেন। প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিস্ফোরণসদৃশ ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত নয়।