বেঙ্গালুরু, ৬ নভেম্বর: কর্ণাটকের রাজধানী বেঙ্গালুরুতে পারিবারিক বিবাদের জেরে স্ত্রী-সহ পরিবারের সাত সদস্যকে খুনের অভিযোগ উঠেছে ৪৫ বছর বয়সি এক ক্যাবচালকের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

অভিযুক্তের নাম শেখর ওরফে ইন্দুশেখর। রাজাজিনগরের ভাষ্যম সার্কেলের কাছে নিজের বাড়িতে দু’দিন ধরে এই হত্যাকাণ্ড চালানোর অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। খুনের পর একাধিক দেহ চিক্কাবল্লাপুর জেলার বিভিন্ন জায়গায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ।

মৃতদের মধ্যে রয়েছেন অভিযুক্তের স্ত্রী সুনীতা, শাশুড়ি রূপাবতী, স্ত্রীর দুই ভাই শিবকুমার ও শঙ্কর, রূপাবতীর দুই পুত্রবধূ দিব্যা ও নলিনী এবং শিবকুমারের সাত বছরের ছেলে পুনীত।

প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, প্রায় ২০ বছর আগে শেখর ও সুনীতার বিয়ে হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাঁদের মধ্যে পারিবারিক অশান্তি চলছিল। সেই বিবাদে সুনীতার পরিবারের সদস্যরা প্রায়ই হস্তক্ষেপ করতেন এবং তাঁকে সমর্থন করতেন।

অভিযোগ, স্ত্রীর পরিবার তাঁদের দাম্পত্য জীবনে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ করছে বলে সন্দেহ করতেন শেখর। সেই কারণেই গোটা পরিবারকে খুনের পরিকল্পনা করেন তিনি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যদের একে একে নিজের বাড়িতে ডেকে এনে মশলা বাটার ভারী পাথর দিয়ে তাঁদের মাথায় আঘাত করে খুন করা হয়। প্রথমে স্ত্রী সুনীতা এবং পরে শাশুড়ি রূপাবতীকে হত্যা করা হয়। এরপর বাড়িতে পার্টির আয়োজনের কথা বলে স্ত্রীর দুই ভাইকে ডেকে এনে খুন করার অভিযোগ উঠেছে। দিব্যা ও নলিনীকেও একইভাবে হত্যা করা হয় বলে দাবি।

নলিনী নিখোঁজ হওয়ার পর ঘটনাটি সামনে আসে। তাঁর মা শ্রীरामপুর থানায় নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তে নেমে শেখরের গতিবিধি নিয়ে সন্দেহ হয় পুলিশের। তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, জেরার মুখে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন।

ইতিমধ্যে সাত বছরের পুনীতের দেহ চিক্কাবল্লাপুর জেলার নন্দী হিলসের কাছে উদ্ধার হয়েছে। বাকি দেহগুলির সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।