নাহারকাটিয়া, ৬ নভেম্বর: গুয়াহাটির বিলাস ইন হোটেলে পাঁচজনকে হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ঘনকান্ত গগৈয়ের স্ত্রী জোনমণি গগৈ তাঁর স্বামীর ভূমিকা ও পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জোনমণির দাবি, বিলাস ইন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ঘনকান্তের কোনও সম্পর্ক ছিল না। কোনও বড় চক্র তাঁকে এই ঘটনায় ব্যবহার করেছিল এবং পরে সেই ষড়যন্ত্র আড়াল করতেই তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জোনমণি প্রশ্ন তোলেন, একটি মামলায় ঘনকান্তকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর পর অন্য একটি সন্দেহভাজন মামলার তদন্তের জন্য শিবসাগর পুলিশ কেন তাঁর আইনজীবী বা পরিবারের সদস্যদের না জানিয়ে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছিল।

তাঁর অভিযোগ, আলোচনার কথা বলে ঘনকান্তকে ডেকে নিয়ে ষড়যন্ত্রের মধ্যে জড়ানো হয়েছিল। রাতের অন্ধকারে তাঁকে শিবসাগরে নিয়ে যাওয়াও তাঁকে হত্যার পরিকল্পনার অংশ ছিল বলে দাবি করেন জোনমণি।

তিনি আরও দাবি করেন, তাঁর স্বামী মদ্যপান করতেন না এবং হত্যার মতো অপরাধে কোনওভাবেই জড়িত থাকতে পারেন না। বড় কোনও চক্রের প্ররোচনায় তাঁকে ব্যবহার করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ তাঁর।

ঘনকান্তের ভাই শুভকান্ত গগৈও এই ঘটনা নিয়ে মন্তব্য করেছেন। বরপেটার কিছু মানুষের আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি হেলেনা ভরালীকে নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি।

উল্লেখ্য, ২৬ অক্টোবর গুয়াহাটির বিলাস ইন হোটেলে পাঁচজনকে হত্যার ঘটনা ঘটে। এই মামলায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত ঘনকান্তকে অন্য একটি অপরাধের তদন্তের জন্য ৩ নভেম্বর দুপুরে শিবসাগরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশের দাবি, ৬ নভেম্বর ভোরে ফুলপানিসিগা এলাকায় প্রস্রাব করতে যাওয়ার অজুহাতে ঘনকান্ত পুলিশের পিস্তল ছিনিয়ে গুলি চালানোর চেষ্টা করেন। আত্মরক্ষার জন্য পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে তাঁর মৃত্যু হয়।

প্রথমে তাঁর দেহ শিবসাগরের জয়সাগর সিভিল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর ক্ষেত্রে তিনটি মেডিক্যাল কলেজের তিনজন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের উপস্থিতিতে ময়নাতদন্তের আইনি নিয়ম অনুসারে ডিব্রুগড়ের অসম মেডিক্যাল কলেজে ময়নাতদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

দীর্ঘ অপেক্ষার পর জয়পুর তাঁতিপাথর গ্রামের পৈতৃক বাড়িতে ঘনকান্তের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। তাঁর ছোট ভাই শুভকান্ত গগৈ মুখাগ্নি করেন।